চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভোটের ফল প্রকাশের পর যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর সামনে আসছে, তখন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া অবস্থানে বিদায়ী বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নন্দীগ্রাম থেকে ফিরে সরাসরি কলকাতার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে হাজির হন তিনি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনার জন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি, ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে শাসকদল তৃণমূলকে একহাত নিলেন শুভেন্দু।
তৃণমূল আমলের সঙ্গে তুলনা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু এদিন স্পষ্ট জানান, “আমি নিজে ডিজির সঙ্গে কথা বলেছি। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের প্রধান দায়িত্ব।” এই প্রসঙ্গে ২০২১ এবং ২০২৩ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ভয়াবহতার কথা মনে করিয়ে দেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, সেই সময় ভোটের ফল প্রকাশের পর যেভাবে সাধারণ মানুষকে ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, অসমে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়েছিল, তা ছিল নজিরবিহীন। হাইকোর্টের নির্দেশে সেইসব ঘটনায় সিবিআই তদন্ত হয়েছে। সেই ভয়াবহ দিনগুলোর তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির আকাশ-পাতাল তফাত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “এখন যে অভিযোগগুলো আসছে তা তৃণমূল আমলের সঙ্গে কোনওভাবেই তুলনা করা যায় না।”
আইন হাতে নেবেন না: শুভেন্দু
শুভেন্দু এদিন জানান, এখনও পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে যেকোনও হিংসাই যে অনভিপ্রেত, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। শাসকদলের দিকে তোপ দেগে তিনি বলেন, “ভোটের পর অশান্তি তৃণমূলের জমানায় ছিল তাদের কালচার। আমরা অশান্তি চাই না।” সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আর্জি জানিয়ে তিনি সাফ জানান, কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন। পুলিশের ডিজিকে সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
রাজ্যে পালাবদলের আবহে বিজেপির এই শীর্ষ নেতা যখন শান্তির বার্তা দিচ্ছেন, তখন তৃণমূলের বিদায়ী জমানার অশান্তির স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি রাজনৈতিক মহলে এক নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন। সব মিলিয়ে, হিংসার রাজনীতিতে ইতি টেনে ‘ভরসার বাংলা’ গড়ার প্রতিশ্রুতিতেই আপাতত অবিচল শুভেন্দু অধিকারী।