চিত্রঃ নিজস্ব
মাধব দেবনাথ,নদিয়া: নেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রোগীর প্রাণ বাঁচানোর একমাত্র লক্ষ্য ছিল চিকিৎসকদের। হ্যাঁ, বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নয় এবার জেলার স্ট্রেট জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হল পাঁচ কেজি ওজনের টিউমার। স্বাভাবিকভাবেই চিকিৎসকদের সফল অস্ত্রোপচার প্রাণ ফিরে পেল দরিদ্র পরিবারের ৪৩ বছর বয়সী হাসিনা বিবি ।
নদিয়ার শান্তিপুর বেড় পাড়ার বাসিন্দা পিন্টু উদ্দীন আলীর স্ত্রী হাসিনা বিবি মাসকয়েক আগে এই রোগে আক্রান্ত হন। যত দিন যায় ততই বাড়তে থাকে জরায়ু টিউমারের ওজন ।দরিদ্র পরিবার হওয়ার কারণে হাসপাতালেই একমাত্র ভরসা ছিল তাদের। গাইনোকলজিস্ট চিকিৎসক ডক্টর পবিত্র বেপারীর নেতৃত্বে গঠিত হয় একটি বিশেষ টিম। চারজন চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে অস্ত্রোপচার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আরো এক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রক্তের যোগান। শান্তিপুর হাসপাতালে নেই ব্লাড ব্যাংক, তবুও চিকিৎসকদের চেষ্টাই যোগাড় করা হয় রক্ত, এরপরে অ্যানেস্থ্যাসিস চিকিৎসক গাইনোকলজিস্ট চিকিৎসক ও আরো দুই অভিজ্ঞ চিকিৎসকের প্রচেষ্টায় এদিন শান্তিপুর হাসপাতালে অস্ত্রোপচার হয় হাসিনা বিবির।
কি হবে, হাসিনা বিবি নতুন করে জীবন ফিরে পাবে কিনা এই নিয়ে ধোঁয়াশায় ছিলেন পরিবার, আশ্বস্ত করেছিলেন চিকিৎসকেরা। আগের মতই আবার মুখে হাসি ফুটবে হাসিনা বিবির। যদিও অবশেষে সাফল্য অর্জন করে চিকিৎসকরা। দীর্ঘ সময়ের অস্ত্রোপচারে সফল হয় চিকিৎসকেরা। স্বামী পিন্টু উদ্দিন আলীর কথায়, তিনি ভাবতেই পারেননি সরকারী হাসপাতালে এই পরিষেবা তিনি পাবেন। স্ত্রীর দ্রুত সুস্থতা কামনা করে কুর্নিশ জানিয়েছেন চিকিৎসকদের। সফল অস্ত্র পাচারের পরে গাইনোকলজিস্ট চিকিৎসক পবিত্র বেপারীর দাবি, পরিবার যখন হাসিনা বিবিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তখন ততটা বিষয়টি উদ্বেগ জনক ছিল না। কিন্তু যত সময় গড়াচ্ছিল ততই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিষয়টি, কিন্তু অস্ত্রোপচার ছাড়া ছিল না কোন উপায়। হাসপাতালে নেই পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, তাই একটু ঝুঁকি হলেই সিদ্ধান্ত নেন অস্ত্র পাচারের। এখন সুস্থ হাসিনা বিবি, পাঁচ কেজির জরায়ু টিউমার প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছিল হাসিনা বিবির।