চিত্র- নিজস্ব
Bangla Jago Desk: বাংলার ভোটের মুখে এবার এক ঐতিহাসিক এবং বেনজির আইনি জয়ের সাক্ষী থাকল রাজ্য। সুপ্রিম কোর্টের এক বিশেষ নির্দেশে রক্ষা পেল হাজার হাজার ভোটারের গণতান্ত্রিক অধিকার। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের মাত্র দু’দিন আগেও যদি ট্রাইব্যুনাল থেকে কোনও বিচারাধীন ভোটারের ছাড়পত্র মেলে, তবে তিনি ভোট দিতে পারবেন। সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে সুপ্রিম কোর্ট এই ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে।
আদালতের এই রায় পাওয়ার পরই রীতিমতো উচ্ছ্বসিত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কোচবিহারের দিনহাটায় একটি সংক্ষিপ্ত জনসভায় তিনি সরাসরি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই সুখবরটি ভাগ করে নেন। তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা বিচারাধীন ভোটারদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে এই নির্দেশ। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, আগামী ২১ এপ্রিল এবং ২৭ এপ্রিলের মধ্যে যদি ট্রাইব্যুনালে মামলার নিষ্পত্তি হয়, তবে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। তবে এর জন্য নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত একটি অতিরিক্ত বা ‘সাপ্লিমেন্টারি’ ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আমি আপনাদের সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। দিনহাটা থেকে উঠেই আমি হেলিকপ্টারে এই সুসংবাদটি পেলাম। আমি বারবার সকলকে ধৈর্য ধরতে বলছিলাম। আজ সুপ্রিম কোর্ট অর্ডার দিয়েছেন, ২১ তারিখের মধ্যে যাদের নাম ট্রাইব্যুনাল থেকে ক্লিয়ার হবে, তাঁদের জন্য কমিশন সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বের করবে। ২৩ তারিখের প্রথম দফার ভোটের জন্য এই বড় সুযোগ।” তিনি আরও জানান, ২৯ তারিখের শেষ দফার ভোটের ক্ষেত্রেও ২৭ তারিখের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল এই ছাড়পত্র দিলে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমি আমাদের বুথ কর্মীদের এবং নেতাদের বলব, কমিশনের থেকে এই লিস্ট পাওয়া মাত্রই যেন ভোটার স্লিপ তৈরি করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেওয়া হয়। মানুষ যেন তাঁর অধিকার পায়। আমি আমাদের বিচার ব্যবস্থার ওপর গর্বিত। এই জয়ের জন্য আজ আমার থেকে খুশি আর কেউ নেই। মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ।”
এই আইনি লড়াইয়ে বড় ভূমিকা ছিল বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা তৃণমূল নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এই নির্দেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা যা চেয়েছিলাম, ঠিক তাই হলো। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেওয়া এই নির্দেশ বাংলার এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অবশ্যই বেনজির এবং অনুপ্রেরণামূলক।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ নির্দেশে বহু অনিশ্চিত ভোটারের মুখে হাসি ফুটেছে, যা নির্বাচনী ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে পারে।