Bangla Jago Desk: সুন্দরবনের রক্ষাকবচ ম্যানগ্রোভকে পুজো করে শুরু হয় সুন্দরবন দিবসের অনুষ্ঠান।রায়মঙ্গলের পারে উলুধ্বনি আর ঘন্টা বাজিয়ে আড়ম্বরের সঙ্গে পুজোপাঠ। গাছ পুজো করে পরিবেশ-প্রকৃতিকে রক্ষা করার অঙ্গীকার করেন ১৯টি দ্বীপঅঞ্চলের মানুষ। নদীমাতৃক সভ্যতার চলমান ধারা বজায় রাখতে ভাসমান জেটির উপরও সুন্দরবন দিবস পালন করা হয়।
জল-জঙ্গলের অসম্ভব সুন্দর- ভূমি সুন্দরবনকে রক্ষা করার জন্য পালন করা হয় সুন্দরবন দিবস।বুধবার সেই উপলক্ষে আয়োজন করা হয় নানা অনুষ্ঠান। জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রান্তিক ভূমিকে বাঁচানোর কথা নতুন রূপে তুলে ধরা হল এই বিশেষ অনুষ্ঠান থেকে।গাছ কেটে সুন্দরবনকে বিপদে ফেলা নয়, ম্যানগ্রোভ রক্ষা করে মানব সভ্যতার পাশাপাশি লুপ্তপ্রায় প্রাণীদের বাঁচিয়ে রাখার কথাও বোঝানো হচ্ছে সুন্দরবনবাসীকে। এরমধ্যে বাংলার সরকারের উদ্যোগে সুন্দরবনের রক্ষাকবচ ম্যানগ্রোভ রোপন করা হয়েছে ৫কোটির বেশি ,নদীবাঁধ শক্তিশালী করার মাস্টারপ্ল্যান কার্যকর করা হচ্ছে। সুন্দরবনের পরিবেশ, ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ধারা বজায় রাখার জন্য ম্যানগ্রোভ পুজো করতে দেখা যায় সুন্দরবন দিবসের অনুষ্ঠানে।উল্লেখ্য,দেশের প্রায় ৮০শতাংশের বেশি ম্যানগ্রোভ পাওয়া যায় সুন্দরবনে।সুন্দরী-গরান শোভিত এই জলবন্দি এলাকায় ৯০শতাংশের বেশি প্রজাতির ম্যানগ্রোভ গাছ দেখা যায়।দুর্যোগের সময় যে ম্যানগ্রোভ বুক দিয়ে সুন্দরবনকে আগলে রাখে সেই সুন্দরবন বাঁচানোর জন্য বুধবার করা হল সুন্দরবন দিবস।সুর-ছন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল দ্বীপ অঞ্চল।
ডানডিয়া নাচের ছন্দেও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের সুরকে নতুন আঙ্গিক দেওয়া হয়। ১৯৮৭সালে ইউনেস্কোর ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’এর মর্যাদা পায় সুন্দরবন।প্রায় ৫৫লক্ষের বেশি মানুষ এই সুন্দরবনকে ঘিরে জীবিকা বাঁচিয়ে রাখার লড়াই করে।লড়াকু দ্বীপের মানুষকে সম্মান জানাতে প্রশাসন এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
২০১১ সালের পর থেকে প্রতি বছর ডিসেম্বরের ১১তারিখে সুন্দরবন দিবস পালিত হয়। ১৪ বছর ধরে চলছে এই অনুষ্ঠান। জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার কাজকে তরান্বিত করার ডাক এরমাধ্যমে জোরালো হচ্ছে। জাতি-ধর্ম-নারী –পুরুষ নির্বিশেষে সুন্দরবনের মানুষ ভালোবাসার দ্বীপকে সাজিয়ে গুছিয়ে রাখার অঙ্গীকার করেন বিশেষভাবে।মানুষের সঙ্গে যাতে প্রাণীরাও সহাবস্থানের সমান সুযোগ পায় সেই বার্তাই যেন এবার ছড়িয়ে দেওয়া হল।