ad
ad

Breaking News

Congress Nomination

শ্রীরামপুরে হেভিওয়েট মনোনয়ন শুভঙ্কর সরকারের, ভোট বাতিলের আশঙ্কায় বিঁধলেন কমিশনকে

চুঁচুড়াতেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সদর মহকুমার পাঁচ কংগ্রেস প্রার্থী

Congress Leader Subhankar Sarkar Files Nomination in Srirampur

চিত্র: নিজস্ব

রাকেশ চক্রবর্তী, হুগলি: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে মনোনয়ন পেশের পালা। বুধবার শ্রীরামপুরে বর্ণাঢ্য মিছিলের মাধ্যমে মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী শুভঙ্কর সরকার। তাঁর সঙ্গে এদিন চাঁপদানি, উত্তরপাড়া ও চণ্ডীতলার কংগ্রেস প্রার্থীরাও তাঁদের মনোনয়ন জমা দেন। অন্যদিকে, চুঁচুড়াতেও মনোনয়ন জমা দিয়েছেন সদর মহকুমার পাঁচ কংগ্রেস প্রার্থী।

মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর শ্রীরামপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) এবং ভোটারদের নাম বাদ যাওয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষকেই কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন শুভঙ্কর সরকার। তিনি বলেন, “এসআইআর-এর কারণে আমরা সবশেষে প্রার্থী পদ ঘোষণা করেছি। মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। যখন মানুষের যন্ত্রণা হচ্ছে, তখন তাঁদের হাতে লজেন্স ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য বর্তমান শাসক দল ও প্রধান বিরোধী দল—উভয়ই দায়ী।”

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “বছরে দু’বার রিভিশন হওয়ার কথা থাকলেও তা কেন হয়নি? একটি খুড়োর কল তৈরি করা হয়েছে যাতে জেনুইন ভোটারদের নামও বাদ যাচ্ছে। সবাই জেতা নিয়ে ভাবছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারবে কি না তা নিয়ে কারও হেলদোল নেই। জেতার জন্য কেবল হিন্দু-মুসলমান রাজনীতি চলছে।”

সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনের জামিন পাওয়া প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “একই স্কুলের দুই ছাত্রের মধ্যে কে ভালো তা বলা কঠিন। তুমি আমায় দেখো, আমি তোমায় দেখি—এই নেতিবাচক রাজনীতিই চলছে।” রাজ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে আজ কেউ ভাবছে না।

হুগলি জেলায় কংগ্রেসের এই সম্মিলিত মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গেল। একদিকে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে রাজ্যের প্রধান দুই শিবিরের গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগ তুলে শুভঙ্কর সরকার যে লড়াইয়ের সুর বেঁধে দিলেন, তা ভোটের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলে এখন সেটাই দেখার।