চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
নয়ন কুইরী, ঝালদা: রাত পোহালেই কালীপুজো। আর তার আগে স্বামী শ্রদ্ধানন্দজি মহারাজ আশ্রমে জোর কদমে চলছে প্রস্তুতি। ভক্তির এই স্থানে রয়েছে নানা আকর্ষণীয় (Spiritual Ashram) বিষয় সে সম্পর্কে জানতে হলে যেতে হবে গ্রাম বাংলার “লাল মাটির দেশ” এবং ঐতিহ্যপূ্র্ণ স্থান পুরুলিয়ায়।
আরও পড়ুনঃ পূণ্যভূমি কামারপুকুর: গদাধরের শৈশব ও আধ্যাত্মিক ইতিহাস
পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড় পাদদেশে অবস্থিত সিরকাবাদ গ্রামের শ্রী শ্রী স্বামী শ্রদ্ধানন্দ জি আশ্রমের মহাশ্মশান কালীমন্দির। এই মন্দির এ বছর ৬১ বছরে পদার্পণ করছে। অযোধ্যার ঘন জঙ্গলের কোলে স্থিত এই মন্দির শুধুমাত্র পুজোর স্থান নয়, এটি আধ্যাত্মিকতার এক জীবন্ত প্রতীক। আশ্রমের সেবিকা ভক্তিরানী দত্ত জানান, বহু বছর আগে স্বামী শ্রদ্ধানন্দ জি পাহাড়ের ওপরে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় কঠোর সাধনা করতেন। পরে গ্রামবাসীদের অনুরোধে তিনি পাহাড় থেকে নিচে নেমে এসে আশ্রম স্থাপন করেন এবং এখানে সাধনা শুরু করেন। স্বামীজির দেহত্যাগের পর তাঁর শিষ্য আত্মবধানন্দ ব্রহ্মচারী বাবা ১৯৬৪ সালে পঞ্চমুন্ডি আসন ও মহাশ্মশান কালীমন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। সেই সময় থেকেই শুরু হয় এই পুজো, যা আজও একইভাবে চলে আসছে পূর্ণ ভক্তি ও বিশ্বাসের সঙ্গে। (Spiritual Ashram)
লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
মন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে মা কালী, শিব, বিষ্ণু ও অন্যান্য দেবদেবীর মন্দিরসহ স্বামীজিদের প্রতিমা। এখানকার এক বিশেষ আকর্ষণ হল স্বামী শ্রদ্ধানন্দ জির চিতার আগুন, যা আজও জ্বলছে বলে বিশ্বাস করেন ভক্তরা। এই অলৌকিক ঘটনাই ভক্তদের মনে গভীর শ্রদ্ধা ও ভয়ের মিশ্র অনুভূতি জাগায়। দীপাবলির সময় আশ্রমে উৎসবের আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। আশ্রমে হয় নানা আচার-অনুষ্ঠান, ভোগ, আরতি ও মহাপ্রসাদের আয়োজন। (Spiritual Ashram)
প্রতিবছর পুরুলিয়া ছাড়াও ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে অসংখ্য ভক্ত আসেন মায়ের দর্শনে। হাতে মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকায় বর্তমানে আশ্রম চত্বরে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মন্দির ও আশ্রম কমিটির পক্ষ থেকে চলছে আলোসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি। স্থানীয়রা জানান, এই পুজো শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি এলাকার ঐতিহ্য ও ভক্তির উৎসব। (Spiritual Ashram)