ad
ad

Breaking News

Ritabrata Banerjee

মমতার বহিষ্কারের চিঠি অবৈধ! ঋতব্রতর ‘নতুন তৃণমূল’কে আইনি সিলমোহর স্পিকারের

“হঠাৎ করে বের করে দেওয়া যায় না!” নিয়ম ভেঙে ঋতব্রত-সন্দীপনকে তাড়ানোতেই কি উল্টে গেল তৃণমূলের চাল?

Speaker Rathindranath Bose Validates Ritabrata Banerjee New TMC

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ঐতিহাসিক ভাঙন শুরু হয়েছে, তা এবার আইনি ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পেয়ে গেল। তৃণমূলের সই-কাণ্ডের পর্দাফাঁস করে রাতারাতি দল থেকে সাসপেন্ড ও বহিষ্কৃত হওয়া দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও সন্দীপন সাহা যে চাল চেলেছিলেন, তাতে কার্যত সিলমোহর পড়ে গেল। দল থেকে তাড়ানোর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘নব্য তৃণমূল’ গড়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতার পদ পকেটে পুরেছেন ঋতব্রত। কিন্তু প্রশ্ন উঠছিল, তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হয়েও তিনি কীভাবে নতুন দল গঠন করলেন? এবার সেই মেগা বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে খোদ বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু জানিয়ে দিলেন, ঋতব্রতকে দল থেকে বের করে দেওয়ার তৃণমূলের সিদ্ধান্তটিই আদতে সম্পূর্ণ বেআইনি!

“২০ মিনিটের বহিষ্কারের চিঠি বৈধ নয়, শোকজ কোথায়?”

দু’দিনের মধ্যে তোলপাড় হওয়া রাজ্য রাজনীতিতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর এই বয়ান এক বিরাট রাজনৈতিক ভূমিকম্পের শামিল। তৃণমূল কংগ্রেস মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে ঋতব্রতকে দল থেকে বহিষ্কারের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তার আইনি ত্রুটি ধুয়ে দিয়ে স্পিকার বলেন, “দলের নিজস্ব সংবিধান অনুযায়ী এই বহিষ্কারের চিঠি মোটেও বৈধ নয়। কাউকে দল থেকে বহিষ্কার করার আগে নিয়ম মেনে শোকজ করতে হয়, বিধায়কদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দিতে হয়। একদিনে হুট করে কাউকে এভাবে তাড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাছাড়া ঋতব্রতদের পক্ষে পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা রয়েছে, তাই স্পিকার হিসেবে আমি তাঁদের ব্লককে স্বীকৃতি দিয়েছি।”

তৃণমূলের চিঠিতেই গলদ, সই-কাণ্ডের তদন্তে সিআইডি

স্পিকার আরও খোলসা করেছেন যে, তৃণমূলের তরফে বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করে যে চিঠিটি পাঠানো হয়েছিল, তার আইনি ড্রাফটিংয়েই বড় ধরনের গলদ ও ত্রুটি ছিল। সেই কারণেই তা বিধানসভা গ্রহণ করেনি। স্পিকারের কথায়, “আমি সম্পূর্ণ আইন মেনে কাজ করেছি, পদের বাইরে গিয়ে কোনও কিছু বেশি বা কম করিনি। এর আগে দলবদলের চিঠিতে বিধায়কদের স্বাক্ষর বা সই নিয়ে যে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছিল, আমরা তার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য পুরো তদন্তভার সিআইডি (CID)-র হাতে তুলে দিয়েছি।”

দিল্লির মঞ্চে স্পিকার, কেন্দ্র-রাজ্য নতুন সমীকরণ?

তবে এই গোটা ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ মোড়টি তৈরি হয়েছে অন্য জায়গায়। রাজ্য বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু কলকাতায় নয়, বরং দেশের রাজধানী দিল্লিতে বসে এই মেগা ঘোষণাটি করেছেন। তাও আবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, অর্জুন রাম মেঘওয়াল এবং রাজ্য বিধানসভার সচিব সত্যেন্দ্রনাথ দাসের পাশে বসে!

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে স্পিকারের এই নজিরবিহীন সাংবাদিক বৈঠক এবং ঋতব্রতর নতুন দলকে আইনি মান্যতা দেওয়া, দিল্লির সঙ্গে নব্য তৃণমূলের কোনও গোপন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর চর্চা শুরু হয়েছে আলিমুদ্দিন থেকে কালীঘাটের অলিন্দে। সব মিলিয়ে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদি তৃণমূল যে বিধানসভায় চরম কোণঠাসা হয়ে পড়ল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।