ad
ad

Breaking News

South 24 Paraganas

South 24 Paraganas: দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিখ্যাত কিছু মেলা

ভরতগড় বাজারে ১লা মাঘ থেকে ৩ দিন ধরে এই মেলা চলে। বনবিবির সাথে শাজঙ্গলী, দক্ষিণ রায় পূজিত হন।

some famous fairs of south 24 parganas

চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স

Bangla Jago Desk:

ঝাঁপ ও শিব সন্ন্যাসী উৎসব

চৈত্র মাসের শেষে চড়ক-গাজন-গোষ্ঠ এই উপলক্ষ্যে ৭-৮ দিনের মেলা হয়। এখানকার শিব কেশবেশ্বর নামে খ্যাত। এটি পত্তন করেন জমিদার কেশব রায় চৌধুরী। এই মেলার বয়স প্রায় ২৫০ বছর। পুত্রের আশায় তিনি এই মন্দির নির্মাণ করেন। উল্লেখযোগ্য ঘটনা হল এই যে ঝাঁপের আগে দুটি শঙ্খচিলকে মন্দিরের মাথায় এসে বসে থাকতে দেখা যায়। মেলা উপলক্ষ্যে মাটির পুতুল, হাঁড়ি-খুরি, সরা, মাদুর, তাল পাখা চাটাই ও কাঠের নানান জিনিসপত্র বিক্রি হয় (South 24 Paraganas)।

দক্ষিণ বিষ্ণুপুরের স্নান মেলা

মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে প্রতি বছর আদি গঙ্গায় স্নান করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। মন্দিরবাজার ব্লকের বিষ্ণুপুর শ্মশানের পাশে এই মেলা কয়েকশো বছর ধরে চলে আসছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনুমান। পুরাতন সামগ্রী বিক্রির জন্য এই মেলা বিখ্যাত।

বোলসিদ্ধির মেলা

বাকসিদ্ধ এক সন্ন্যাসী এখানে থাকতেন। তিনি এখানে সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। এই মেলার বৈশিষ্ট্য হল ‘বাণফোড়া’ উৎসব। শতাধিক সন্ন্যাসী চামড়ায়, ঠোঁটে, বাহুমূলে বাণ ফুড়ে পাশের গ্রামে মঙ্গলচণ্ডীর মন্দিরে পূজো দিতে যান।

তালডাঙার মেলা

পৌষ মাসে ডায়মন্ড হারবার ১ নং ব্লকের তালডাঙায় (South 24 Paraganas) গাজীর থানে ভিড় জমান হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষ। রোগ মুক্তির আশায় গাজীর থানে মানত ও সিন্নি দিতে দেখা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। গাজীর স্মরণে এক সপ্তাহ ধরে অনুষ্ঠিত হয় গ্রামীণ মেলা।

অন্ধমুনির মেলা

পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে প্রতি বছর আদি গঙ্গায় স্নান করতে আসেন হাজার হাজার মানুষ। রামায়ণে বর্ণিত অন্ধমুনির মেলা বসে চক্রতীর্থে। চৈতন্যদেব সপার্ষদ চক্রতীর্থ থেকে পাড়ি দিয়ে নীলাচলে গমন করেন। অন্ধমুনি নাকি অন্ধ মানুষের দৃষ্টি ফিরিয়ে দিতেন এখানে। কথিত আছে পরশুরাম এখানে স্নান করে মাতৃহত্যার পাপের অনুশোচনা জনিত মনের শান্তি লাভ করেন।

মানুষ ঠাকুরের মেলা

কুলপি থানার ভগবানপুর ও নিশ্চিন্তপুরে মানুষ ঠাকুরের মেলা বসে। গ্রামের সাধারণ মানুষ শিব, দুর্গা, কালি ইত্যাদি নানা দেবতার রূপ পরিগ্রহ করে নানা বেশভূষায় সজ্জিত হয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় মাটির মূর্তি।

দক্ষিণ রায়ের জাঁতাল পূজা

ধপধপি গ্রামে দক্ষিণ রায়ের দিব্য মূর্তিকে পয়লা মাঘ যে পুজা করা হয় তাকে জাঁতাল পূজার মেলা বলা হয়। এই পূজায় বড় বাঁশের লাঠির মাথায় খড় বেঁধে আগুন জ্বালানোর রীতি আছে। কথিত আছে এই আলো যতদূর থেকে দেখা যাবে ততদূর পর্যন্ত কোন অশুভ শক্তি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারবে না।

বারুইপুরের রাস মেলা

বারুইপুরের (South 24 Paraganas) রাধাকৃষ্ণের রাস-উৎসব উপলক্ষে স্থানীয় প্রাচীন জমিদার রায়চৌধুরীদিগের প্রায় আট বিঘা জমির উপর কার্ত্তিক পূর্ণিমা থেকে এক মাসব্যাপী একটি মেলা বসে। মেলাটি প্রায় ২০০ বছরের পুরনো। জমিদার মাল্য রায়চৌধুরী এই মেলা শুরু করেন। রাস মঞ্চকে কেন্দ্র করে এবা বাধা কৃষ্ণের মূর্তিকে সাজিয়ে পুজো দেওয়া হয়, এই উপলক্ষ্যে মেলা বসে।

ঘুটিয়ারি শরীফ মেলা

এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ হল হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ পাশাপাশি বসে উপাসনা করেন। প্রবাদ আছে মুবারক গাজী অসাধারন ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। বনের হিংস্র ব্যাঘ্র ও অন্যান্য জন্তু-জানোয়ারদের তিনি বশীভূত করতে পারতেন। বাঘের পিঠে চড়ে তিনি চলাফেরা করতেন। হিন্দু ও মুসুলমান সকলের পরম শ্রদ্ধার পাত্র ছিলেন।

হিন্দু ও মুসলমান ভক্তদের সমন্বয়ে অম্বুবাচীর সময় পীর সাহেবের উরস্ উপলক্ষ্যে সাতদিন ব্যাপী ও ১৭ শ্রাবণ একদিন ব্যাপী আরেকটি মেলা চন্নন মেলা অনুস্থিত হয়। কথিত রয়েছে, বড়খাঁ গাজী একবার অনাবৃষ্টির সময়ে জনগণের অনুরোধে বৃষ্টি নামানোর জন্য ধ্যানে বসেন। তিন দিন পরেও ঘরের বাইরে না এলে, শিষ্যরা তাঁকে মৃত ভেবে কবরস্থ করেন। সেই দিনেই বৃষ্টি নামে। শিষ্যরা স্বপ্নাদেশ পান, তাঁরা ভুল করেছেন।

এই মেলার অগণিত ভক্তদের মধ্যে রয়েছে নিঃসন্তান সন্তান নারীরা যাঁরা পুকুরে প্রদীপ ভাসান আকাঙ্খা পূরণের জন্য।

গোষ্ঠ মেলা

মূলতঃ বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাসে এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। গরুর উপকারিতা ও অর্থনীতিতে এর অবদানের জন্য প্রাচীন কাল থেকে গরুকে গো-ধন হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। এই গরু পূজা বা গোষ্ঠ পূজার অনুষঙ্গে শ্রীকৃষ্ণও ধীরে ধীরে যুক্ত হন। কারণ শ্রীকৃষ্ণকে গোষ্ঠগোপাল হিসাবে দেখা হয়। একাধারে দেবতা ও পশু পালনের সুরক্ষাজনিত চেতনা মিলে মিশে এই মেলা সৃষ্টি হয়। আনুমানিক চল্লিশ বছর ধরে এই মেলা হয়ে আসছে।

[আরও পড়ুনঃ Sealdah to North Bengal Train: উত্তরবঙ্গের ট্রেনের পুরোনো পথ, আজও ইতিহাস কথা বলে]

কুরুক্ষেত্র মেলা

এই ব্লকের আমতালি গ্রামে সরস্বতী পুজার দিন থেকে এক মাস ব্যাপী এই মেলার সূচনা হয়। মাটির প্রতিমা গড়ে মহাভারতের কাহিনী তুলে ধরা হয়। ঘটা করে পূজা করা হয়।

ডায়মণ্ড হারবার বাবা বড় কাছারীর মেলা

বাবা বড় কাছারী মন্দির হল গ্রামবাংলার লৌকিক ধ্যানধারণা ও বিশ্বাসে প্রতিষ্ঠা পাওয়া হিন্দুদের পূজার্চনার স্থল। পরমেশ্বর শিব এখানে পূজিত হন। বর্তমানে এটি স্থানীয় মানুষের গ্রামীণ জীবনচর্যায় এক বিশেষ স্থান অর্জন করেছে। প্রতি শনি ও মঙ্গলবার ধুমধাম সহকারে পুজা করা হয়।

জয়রামপুর শিব মন্দির নীল ও চড়ক মেলা

চড়ক পুজো কবে কী ভাবে শুরু হয়েছিল তার সঠিক ইতিহাস জানা যায় না। তবে প্রচলিত রয়েছে, ১৪৮৫ খ্রিস্টাব্দে সুন্দরানন্দ ঠাকুর নামের এক রাজা এই পুজোর প্রচলন করেন। রাজ পরিবারের লোকজন এই পুজো আরম্ভ করলেও চড়কপুজো কখনও রাজ-রাজড়াদের পুজো ছিল না। প্রতি বছর চৈত্র সংকান্তির দিনে এই মেলাটি বসে। এলাকার আশেপাশে থেকে বহু পুণ্যার্থী এই মেলায় আসে।

হ্যামিলটন সাহেবের মেলা

গোসাবার (South 24 Paraganas) কাছারী ময়দানে হ্যামিলটন সাহেবের মূর্তির পাশে প্রতি বছর ৬ জানুয়ারি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে এক মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলা ছাড়াও বিদগ্ধ ব্যক্তিদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। হ্যামিলটন সাহেবের ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গরীব মানুষের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। এই মেলা গোসাবা, বাসন্তী, সন্দেশখালি ব্লকের মানুষের কাছে একটি ঐতিহ্যপূর্ণ অনুষ্ঠান।

[লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial/

বনবিবি মেলা

বাসন্তী ব্লকের ভরতগড়ে শতাব্দীপ্রাচীন একটি মেলা বসে তাঁর নাম বনবিবি মেলা। ভরতগড় বাজারে ১লা মাঘ থেকে ৩ দিন ধরে এই মেলা চলে। বনবিবির সাথে শাজঙ্গলী, দক্ষিণ রায় পূজিত হন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচরিতে লেখা আছে মহেশ চৌধুরীর নায়েব ছিলেন পঞ্চানন দাস। মহেশ চৌধুরীর নামেই মহেশপুর গ্রাম, এবং তাঁর কন্যার নাম অনুসারে ব্লকের নাম বাসন্তী।

সাহেব বাড়ির বড়দিনের মেলা

বড়দিন উপলক্ষ্যে মথুরাপুর-২ ব্লকের সাহেববাড়ি এলাকায় ব্রিটিশ আমল থেকে এই মেলা চলছে।