চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা ‘এসআইআর’ (SIR) কি ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে নির্ণায়ক ভূমিকা নিল? সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে এমনটাই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া বিধানসভাগুলোতে ফলাফলের ধরনে বড়সড় রদবদল ঘটেছে। বিশেষ করে সামশেরগঞ্জ, মানিকচক বা কেতুগ্রামের মতো আসনে এই এসআইআর ফ্যাক্টর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঘাসফুলের দাপট যেখানে নাম বাদ সর্বাধিক
কমিশনের তালিকা অনুযায়ী, সামশেরগঞ্জে রেকর্ড ৭৪,৭৭৫ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছিল। তা সত্ত্বেও সেখানে তৃণমূল সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে জয়লাভ করেছে। শুধু সামশেরগঞ্জ নয়, নাম বাদ পড়ার তালিকায় শীর্ষে থাকা ২০টি আসনের মধ্যে ১৩টিতেই জিতেছে তৃণমূল। লালগোলা, ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জ এবং মেটিয়াবুরুজের মতো আসনগুলোতেও হাজার হাজার নাম বাদ যাওয়া সত্ত্বেও ঘাসফুল ফুটেছে। অন্যদিকে, ৩৮ হাজার নাম বাদ যাওয়া ফরাক্কা আসনটি গিয়েছে কংগ্রেসের দখলে।
বিজেপির উত্থান ও ১৮৭ আসনের অঙ্ক
তৃণমূল শীর্ষ ২০-র তালিকায় আধিপত্য দেখালেও, সামগ্রিক চিত্রে বিজেপি লাভবান হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ১৮৭টি এমন বিধানসভা রয়েছে যেখানে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। চমকপ্রদভাবে এই ১৮৭টি আসনের মধ্যে ১১৯টিতে জিতেছে বিজেপি, আর তৃণমূল জিতেছে ৬৫টিতে। বিজেপি জয়ী হওয়া এই ১১৯টি আসনের মধ্যে ২৮টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। অর্থাৎ, ওই ভোটাররা তালিকায় থাকলে হয়তো ফলাফলের ছবিটা অন্যরকম হতে পারত। উল্লেখ্য, এর মধ্যে ২৬টি আসন ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল।
অযোগ্য ভোটার ছাঁটাই না কি রাজনৈতিক সমীকরণ?
গত বছরের জুন মাসে নির্বাচন কমিশন মৃত এবং অযোগ্য ভোটারদের চিহ্নিত করতে এই এসআইআর প্রক্রিয়া চালু করেছিল। কিন্তু ৪৭টি আসনে দেখা গিয়েছে যে, বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর লিডের চেয়েও বেশি। কেতুগ্রামের কথাই ধরা যাক, সেখানে ২৬,৭৮০টি নাম বাদ পড়েছিল আর বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ জয়ী হয়েছেন ২৭,৬১০ ভোটে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ভোটার তালিকায় এই বড় ধরনের কাটছাঁট না হলে অনেক আসনেই ফলাফল তাদের অনুকূলে থাকত। সব মিলিয়ে, ছাব্বিশের ভোটে ব্যালট বক্সের লড়াইয়ের সমান্তরালে ভোটার তালিকার এই ‘এসআইআর’ বিতর্ক এক নতুন রাজনৈতিক তর্কের জন্ম দিয়েছে।