চিত্র- নিজস্ব
AK Bangla Desk: শুক্রবার সকাল থেকেই দমদম বিমানবন্দর চত্বর এবং সংলগ্ন বিরাটি ও বাঁকড়া এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে থাকা ঐতিহাসিক ‘বাঁকড়া মসজিদ’ স্থানান্তর করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এদিন সেখানে নমাজ পড়ার ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতা সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি যাতে হাতের বাইরে না চলে যায়, তার জন্য আগেভাগেই কড়া ব্যবস্থা নেয় বিধাননগর পুলিশ প্রশাসন। বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এবং তার আশেপাশের এলাকায় জারি করা হয় ১৬৩ ধারা। কিন্তু এই টানটান উত্তেজনার মাঝেই নাটকীয় মোড়! এয়ারপোর্ট চত্বরে গিয়েও আচমকাই পিছু হটলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।
শুক্রবার সকাল থেকেই গোটা বিমানবন্দর এলাকা মুড়ে ফেলা হয় কড়া নিরাপত্তায়। বিধাননগর পুলিশের বিশাল বাহিনীর পাশাপাশি নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী, র্যাফ (RAF) এবং আনা হয় জলকামান। কোনওভাবেই যাতে সাধারণ মানুষের জমায়েত না হয়, তার জন্য অনবরত মাইকিং করা হতে থাকে। যাতে এয়ারপোর্টের যাত্রীদের কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, সেদিকেও কড়া নজর ছিল প্রশাসনের। এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মাঝেই দুপুরের দিকে এয়ারপোর্ট চত্বরে পৌঁছান সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সেখানে কর্তব্যরত উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তিনি। এরপরই সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, আজকের মতো এই কর্মসূচি বাতিল করা হল। তবে ঠিক কী কারণে তিনি পিছু হটলেন, তা নিয়ে বিস্তারিত মুখ খোলেননি এই নেতা।
১৩৬ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামে মসজিদটি স্থানীয়ভাবে ‘বাঁকড়া মসজিদ’ নামে পরিচিত, যা বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরেই অবস্থিত। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, এই মসজিদের ঠিক ঢিলছোড়া দূরত্বেই রয়েছে এয়ারপোর্টের দ্বিতীয় তথা ছোট রানওয়েটি। প্রধান রানওয়েটি যখন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে, তখন বড় বিমান নামানোর ক্ষেত্রে এই দ্বিতীয় রানওয়েটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু মসজিদের অবস্থানের কারণে বড় বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকি থাকে বলে দাবি বিমানবন্দর বিশেষজ্ঞদের। এই রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজও বহু বছর ধরে থমকে রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আলোচনা চলার পর অবশেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে সুরক্ষার স্বার্থে এই মসজিদ স্থানান্তর করা হবে। ইতিমধ্যেই বিমানবন্দরের ভেতর দিয়ে এই মসজিদে যাওয়ার জন্য যে ‘এন্ট্রি পাস’ দেওয়া হত, তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ হয়েছে নমাজপাঠও। আর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুর চড়িয়েছিলেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। তবে শুক্রবারের পুলিশের কড়া মনোভাবের মুখে এই নেতার পিছু হটা আগামী দিনে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।