ad
ad

Breaking News

ভাঙড় বিস্ফোরণের ‘মাস্টারমাইন্ড’ শওকত মোল্লা!বিবৃতি জারি এনআইএ-র

এক বিবৃতির মাধ্যমে সবিস্তারে খোলসা করেছে এনআইএ

shaukat-arrest-nia-bhangar-former-tmc-mla

চিত্রঃ সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে এবার এক বিস্ফোরক দাবি করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই পুরো বিস্ফোরণ কাণ্ডের নেপথ্যে ‘মূল সন্দেহভাজন’ এবং প্রধান চক্রান্তকারী হলেন ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তথা দাপুটে নেতা শওকত মোল্লা। তৃণমূলের এই শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতারের পর, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁর ঠিক কী ধরণের যোগসূত্র রয়েছে এবং কীভাবে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতেন, তা এক বিবৃতির মাধ্যমে সবিস্তারে খোলসা করেছে এনআইএ। 

শনিবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট জানিয়েছে, প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাই হলেন এই মামলার ‘মূল হোতা’। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার ঠিক আগে ভাঙড়ে যে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল, সেই মামলায় প্রাক্তন বিধায়ক শওকত মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একাধিক গোপন ডেরায় ও বিভিন্ন জায়গায় ম্যারাথন তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অবশেষে তাঁকে জালে তোলা সম্ভব হয়েছে।” তদন্তকারী সংস্থা আরও জানিয়েছে যে, এই স্পর্শকাতর মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে শওকত বাকি অভিযুক্তদের পরিচালনা ও নির্দেশ দিতেন। তদন্তে উঠে এসেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য; বোমা বিস্ফোরণের ঠিক পরেই ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত তথ্যপ্রমাণ এবং বোমার অবশিষ্টাংশ দ্রুত নষ্ট করে দেওয়ার সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন স্বয়ং শওকত। শুধু তাই নয়, বিস্ফোরণের তীব্রতায় যাঁরা মারা গিয়েছিলেন এবং যাঁরা গুরুতর জখম হন, তাঁদের তড়িঘড়ি একটি স্করপিও গাড়িতে চাপিয়ে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে গাড়িটির চালক তথা অপর এক অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করেছে এনআইএ।

উল্লেখ্য, বঙ্গে ভোটের দামামা বাজার আগেই ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় একটি বাড়িতে আচমকা এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল। সেই শক্তিশালী বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনার তদন্তের সূত্র ধরেই গত বৃহস্পতিবার এনআইএ-র একাধিক বিশেষ দল একযোগে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের বিভিন্ন এলাকায় হানা দেয়। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একটি দল শওকত মোল্লার বাড়ি ও তাঁর ব্যক্তিগত দলীয় কার্যালয়-সহ একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালালেও, অভিযানের ঠিক আগেই চতুরতার সঙ্গে এলাকা ছাড়েন এই তৃণমূল নেতা। এরপর রাজ্যজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে অবশেষে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক গোপন আস্তানা থেকে শওকতকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ। যদিও শওকতের পরিবারের তরফে দাবি করা হয়েছে যে তিনি নিজেই এজেন্সির কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। তবে পরিবারের দাবি উড়িয়ে এবার শওকতকে এই বিস্ফোরণ চক্রের ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল সন্দেহভাজন হিসেবে উল্লেখ করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে এনআইএ, যা নিয়ে ভোটের মুখে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।