ad
ad

Breaking News

Baruipur Case

বারুইপুরে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ টিমকে আটকাল পুলিশ! সায়নী-ঋতব্রতর সঙ্গে তুমুল ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত এলাকা

“মুখ্যমন্ত্রী আমাদের পাঠিয়েছেন!” বারুইপুরের নির্যাতিতার দুয়ারে সায়নী ঘোষ, বাইরে দাঁড়িয়ে হুঙ্কার কাকলি-চন্দ্রিমার

Baruipur Case: Saayoni Ghosh and Ritabrata Banerjee Blocked by Police, Meet Victim's Family

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: বারুইপুরের নাবালিকা ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলার রাজনৈতিক পারদ এবার এক ধাক্কায় তুঙ্গে পৌঁছাল। সোমবার কালীঘাট শিবিরের পর, মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছাল ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘আসল’ তৃণমূলের এক হেভিওয়েট প্রতিনিধি দল। তবে এলাকায় ঢোকা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের তুমুল ধস্তাধস্তি ও বাকবিতণ্ডা ছড়ায়। শেষমেশ শুধু ডায়মন্ড হারবার লোকসভার সাংসদ সায়নী ঘোষকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয় পুলিশ।

বারুইপুরের ১১ বছরের নাবালিকাকে পাশবিক অত্যাচার ও খুনের ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা পর এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নামল ‘আসল’ তৃণমূলের নেতৃত্ব। মঙ্গলবার সকালে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বারুইপুরে পৌঁছান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ সায়নী ঘোষ, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। কিন্তু এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলার অবনতির দোহাই দিয়ে গ্রামে ঢোকার মুখেই তাঁদের পথ আটকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে প্রতিনিধি দলের দীর্ঘক্ষণ চরম ধস্তাধস্তি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। শেষ পর্যন্ত পুলিশ অনড় থাকায়, স্থানীয় সাংসদ হিসেবে শুধুমাত্র সায়নী ঘোষকে ভেতরে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

নির্যাতিতার মায়ের কান্না মুছলেন সায়নী, বাইরে দাঁড়িয়ে বড় বার্তা কাকলি দস্তিদারের

ভেতরে গিয়ে সায়নী ঘোষ শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন এবং তাঁদের সবরকম আইনি ও আর্থিক সাহায্যের আশ্বাস দেন। অন্যদিকে, গ্রামের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের এই অতিসক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী আমাদের নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছেন এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াতে। এটি অত্যন্ত নৃশংস ও নিন্দনীয় অপরাধ। প্রশাসন ও পুলিশ ইতিমধেই কঠোর পদক্ষেপ করেছে। দোষীদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত আমরা লড়ব।”

মমতা বনাম ঋতব্রত শিবির, বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক টানাপোড়েন!

উল্লেখ্য, সোমবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডলরা বারুইপুরে এসে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছিলেন। তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের এই কর্মসূচি প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বাংলার গ্রামীণ ভোটব্যাঙ্ক ও আইন-শৃঙ্খলা ইস্যুকে হাতছাড়া করতে নারাজ কোনও পক্ষই। একদিকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানী ভবনে তলব করেছেন, অন্যদিকে দুই তৃণমূলের এই ব্যাক-টু-ব্যাক ভিজিটকে কেন্দ্র করে বারুইপুরের মাটি এখন চরম রাজনৈতিক কুরুক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।