ad
ad

Breaking News

Food Safety

পচা মাংসের পর এবার কালো পনির! বর্ধমানের নামী মিষ্টির দোকানে অভিযানে চক্ষুচড়ক গাছ আধিকারিকদের

মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিম থেকে বেআইনি কারখানা! খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের হানায় বর্ধমানে সিল হল মিষ্টির দোকান

Rotten Paneer Seized In Burdwan Food Safety Department Raid

নিজস্ব চিত্র

পিন্টু প্যাটেল, পূর্ব বর্ধমান: পচা ও রাসায়নিক যুক্ত মাংস বিক্রির চক্র সামনে আসার পর এবার মিষ্টির দোকানে মিলল ফাঙ্গাস জমে কালো হয়ে যাওয়া পচা পনির! বর্ধমান শহরের একাধিক নামীদামি মিষ্টান্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় অভিযান চালিয়ে এই ভয়াবহ চিত্র তুলে আনল জেলা খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। অভিযানে প্রায় ২০ কেজিরও বেশি পচা পনির বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে মেয়াদ উত্তীর্ণ আইসক্রিম ধ্বংস করা হয়েছে। উপযুক্ত লাইসেন্স না থাকায় সিল করে দেওয়া হয়েছে একটি মিষ্টির কারখানা।

মঙ্গলবার থেকেই পূর্ব বর্ধমান জেলাজুড়ে দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছেন খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিকরা। প্রথম দিন শক্তিগড়ের বিখ্যাত ল্যাংচা হাব ও আমড়ার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারের রেস্তরাঁ ও ধাবায় হানা দেওয়া হয়। সেখানে প্রস্তুত করার তারিখ (Manufacturing Date) উল্লেখ না থাকা প্রচুর প্যাকেটজাত খাদ্য উপাদান বাজেয়াপ্ত করে সঙ্গে সঙ্গে নষ্ট করা হয়। এরপর বুধবার সকাল থেকে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান শহরের কেন্দ্রস্থলে অভিযানে নামেন তারা।

বিশ্বখ্যাত সীতাভোগ ও মিহিদানার জন্য পরিচিত বেশ কয়েকটি নামী মিষ্টির দোকানে পা রাখতেই চোখ ছানাবড়া হয়ে যায় আধিকারিকদের। দোকানের ডিপ ফ্রিজ খুলতেই দেখা যায়, স্তূপ করে রাখা পনির পুরোপুরি কালচে হয়ে গিয়েছে এবং তাতে সাদা ফাঙ্গাস বা ছত্রাক জন্মেছে। এই পচা পনির দিয়েই সেখানে নানা পদ ও মিষ্টি তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ। শহরের আরও একটি প্রাচীন ও নামী দোকানেও একই দৃশ্য দেখা যায়। দুই দোকান মিলিয়ে বাজেয়াপ্ত হয় প্রায় ২০ কেজি পচা পনির।

শুধু পনির বা আইসক্রিম নয়, বর্ধমানের বিখ্যাত সীতাভোগ ও মিহিদানায় ব্যবহৃত খাঁটি ঘিয়ের গুণগত মান নিয়েও প্রবল সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তদন্তকারীরা। ঘিয়ের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, বৈধ কারখানা চালানোর অনুমতি বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় একটি মিষ্টান্ন কারখানা বন্ধ করে সিল করে দিয়েছেন আধিকারিকরা।

ঘটনার দায় স্বীকার করে এক নামী দোকানের মালিক দিলীপ ভগৎ জানান, “আমাদের নজরদারির অভাবেই ফ্রিজে পনির কালো হয়ে থেকে গিয়েছিল। তবে অন্যান্য উপাদানে গাফিলতি পাওয়া যায়নি, ভবিষ্যতে আমরা আরও সতর্ক থাকব।” সাম্প্রতিক এই অভিযানে মিষ্টিপ্রেমীদের কপালে উদ্বেগের ভাঁজ পড়েছে।