ad
ad

Breaking News

Ritabrata Banerjee

৫৮ বিধায়কের সই নিয়ে স্পিকারের ঘরে ঋতব্রত! মমতার হাত থেকে কি সত্যিই চলে গেল তৃণমূলের রাশ?

স্পিকারের ঘরে ঋতব্রতর মেগা স্ট্রোক! ৫৮ বিধায়কের সই করা চিঠি জমা পড়তেই আইনি খাঁড়ার মুখে কালীঘাট

Ritabrata Banerjee Rebel TMC 58 MLAs Letter Assembly Speaker

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ফাটল ধরেছিল, বুধবার তা এক চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক রূপ নিল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বিধানসভায় স্পিকার রথীন বসুর সঙ্গে দেখা করে ৫৮ জন বিধায়কের সই সম্বলিত এক ঐতিহাসিক চিঠি জমা দিলেন বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। এই চিঠির মাধ্যমে বিধানসভায় নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করার পাশাপাশি উলুবেড়িয়ার বিধায়ক ঋতব্রতকে নতুন বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও স্পিকার এখনও এই চিঠি গ্রহণ করেছেন কি না, তা জানা যায়নি। তবে স্পিকারের সিলমোহর পড়লেই যে খাতায়-কলমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পরিষদীয় দলের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। তবে চমকপ্রদভাবে, এই চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দলের ‘সভানেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিদ্রোহীরা।

ঋতব্রত দলনেতা, উপনেতা জাভেদ-শিউলি; চিফ হুইপ আখরুজ্জামান

স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া ওই চিঠিতে শুধু বিরোধী দলনেতা নয়, নতুন পরিষদীয় দলের পুরো কাঠামোর উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তৃণমূলের উপদলনেতা বা উপনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে সন্দীপন সাহা, জাভেদ খান এবং শিউলি সাহার নাম। অন্য দিকে, দলের চিফ হুইপ বা মুখ্য সচেতক হিসেবে নাম রয়েছে বিধায়ক আখরুজ্জামানের।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে মোট ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের (অর্থাৎ অন্তত ৫৪ জন) সমর্থন প্রয়োজন ছিল। আজ ৫৮ জন বিধায়কের সই জমা দিয়ে ঋতব্রতরা সেই ম্যাজিক ফিগার অনায়াসেই পার করে ফেললেন, যা কালীঘাটের শীর্ষ নেতৃত্বের রক্তচাপ এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

সই জাল কেলেঙ্কারিই কি কাল হল?

এই ঐতিহাসিক ভাঙনের সূত্রপাত মূলত বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাবের চিঠিকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ ওঠে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকারের কাছে যে প্রস্তাবপত্র পাঠিয়েছিলেন, তাতে বহু বিধায়কের সই জালিয়াতি করা হয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) নিজেই প্রকাশ্য এনেছেন যে, ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহাই প্রথম এই জালিয়াতির বিষয়টি বিধানসভাকে জানান। এর পরেই হেয়ার স্ট্রিট থানায় এফআইআর দায়ের হয় এবং সিআইডি তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই ১৩ জন বিধায়কের বয়ান রেকর্ড করেছে। এই অস্বস্তির মাঝেই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করে তৃণমূল, যা হিতে বিপরীত হয়ে বিদ্রোহীদের সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।

অভিষেকের চাল ভেস্তে দিলেন স্পিকার?

গতকাল, মঙ্গলবারই তড়িঘড়ি শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতার মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু স্পিকার কলকাতায় না থাকায় সেই চিঠি গৃহীত হয়নি। বুধবার স্পিকার বিধানসভায় পা রাখতেই প্রথমে ঋতব্রতর নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ দলই তাঁর ঘরে ঢুকে ৫৮ জনের চিঠিটি টেবিল করে দেয়। এখন স্পিকারের আইনি সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বাংলার রাজনীতির আগামী ভবিষ্যৎ।