ad
ad

Breaking News

Ritabrata Banerjee

“আজ আছি, কাল কী হবে কে জানে!”, নতুন তৃণমূলের জল্পনা জিইয়ে রাখলেন ঋতব্রত

দল ভাঙতে এবং প্রতীক নিজেদের কব্জায় নিতে ঋতব্রতদের প্রয়োজন কমপক্ষে ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়কের সই।

Ritabrata Banerjee Denies 50 MLAs Letter New TMC Rumours

চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যে ভাঙনের খেলা শুরু হয়েছে, তা মঙ্গলবার এক চরম নাটকীয় মোড় নিল। সকাল থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে জোর গুঞ্জন ছিল, বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Ritabrata Banerjee) নেতৃত্বে আজই বিধানসভার স্পিকারের কাছে ৫০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কের সই সম্বলিত এক ঐতিহাসিক চিঠি জমা পড়তে চলেছে। দাবি করা হচ্ছিল, এই চিঠির মাধ্যমেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হবে ‘জোড়াফুল’ প্রতীক এবং ‘তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটির আসল মালিকানা দাবি করবেন এই বিদ্রোহীরা। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে বিধানসভা থেকে বেরনোর সময় স্বয়ং ঋতব্রত এই চিঠি জমার খবর এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিলেন। তবে সরাসরি জল্পনা খারিজ করলেও, তাঁর শেষ লাইনের মন্তব্য আগামী দিনের এক বড়সড় ঝড়ের ইঙ্গিত দিয়ে রাখল।

“চিঠি নিয়ে কিছু জানি না, ব্যক্তিগত কাজে এসেছিলাম”

মঙ্গলবার বিকেলে বিধানসভার গেটের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানান, “চিঠি নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। সংবাদমাধ্যমে যা চলছে, সেসব গল্পের গরু গাছে তোলার মতো অবস্থা! আমি আজ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কাজে বিধানসভায় এসেছিলাম।”

সকালে বিজেপি নেতা তাপস রায়ের করা একটি ফেসবুক পোস্ট প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “উনি কী পোস্ট করেছেন, তা ওই বলতে পারবেন। তবে শোনা যাচ্ছে আমি নাকি দক্ষিণ কলকাতার এক হোটেলে একাধিক বিধায়কদের নিয়ে গোপন বৈঠক করেছি! আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আমার ফোনের টাওয়ার লোকেশন খতিয়ে দেখা হোক, তাহলেই বোঝা যাবে আমি কোথায় ছিলাম।” তবে একই সঙ্গে রথীন ঘোষ ও শিউলি সাহার মতো হেভিওয়েট তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন।

দুই-তৃতীয়াংশের গেরো! কোথায় আটকে গেল ‘অপারেশন জোড়াফুল’?

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতব্রত চিঠি দেওয়ার কথা মুখে অস্বীকার করলেও, এর নেপথ্যে রয়েছে এক জটিল আইনি ও গাণিতিক অঙ্ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন অনুযায়ী, কোনও দলের প্রতীক বা নাম দাবি করতে গেলে বিধানসভায় সেই দলের মোট বিধায়কের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশের (২/৩) সমর্থন প্রয়োজন। ছাব্বিশের নির্বাচনে তৃণমূল মোট ৮০টি আসনে জিতেছিল। সেই হিসেবে দল ভাঙতে এবং প্রতীক নিজেদের কব্জায় নিতে ঋতব্রতদের প্রয়োজন কমপক্ষে ৫৩ থেকে ৫৪ জন বিধায়কের সই।

কিন্তু এই মুহূর্তে ঋতব্রতের শিবিরে সই করা বিধায়কের সংখ্যা ৫০-এ গিয়ে আটকে গিয়েছে। অর্থাৎ আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ম্যাজিক ফিগার থেকে আর মাত্র ৩-৪ জন বিধায়ক কম রয়েছেন তাঁরা। আর এই কারণেই মঙ্গলবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও স্পিকারের দফতরে চিঠি জমা দিতে পারেননি উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক।

সূত্রের খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বাকি ৩-৪ জন বিধায়ককে নিজেদের দিকে টেনে এই সমস্যার সমাধান করতে কোমর বেঁধে নেমেছে বিক্ষুব্ধ শিবির। সেই কারণেই সব জল্পনা উড়িয়ে দিলেও যাওয়ার আগে মুচকি হেসে ঋতব্রত বলে গেলেন, “আমি আজ-এ বিশ্বাসী। কাল কী হবে কে জানে, তা আমি বলতে পারব না!” ওঁর এই এক লাইনের রহস্যময় মন্তব্যই বলে দিচ্ছে, বাংলার রাজনীতির অলিন্দে আগামীকাল এক মহা-বিস্ফোরণ ঘটা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা।