Bangla Jago Desk: চোদ্দো থেকে চব্বিশ। দশবছর মোদি সরকারের আমলে লাগাতার ঘটে চলেছে রেল দুর্ঘটনা। তবুও উদাসীন কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। প্রাণহানি, রেলের সম্পত্তি নষ্ট, যাত্রীদের জীবন যন্ত্রণা বেড়ে যাওয়া, এসব নিয়ে যএন রেলমন্ত্রকের কোনও মাথাব্যথা নেই। বিরোধীরা সরব, রেলের মতো ব্যস্ততম গণপরিবহণকে কেন অবহেলার তালিকায় রাখা হচ্ছে ? স্বাধীনতার পর ১৯৫১তে রেল রাষ্ট্রীয় মালিকানায় আসে। মূলতঃ দেশের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্যই রেলের মতো পরিবহণ ব্যবস্থাকে জাতীয়করণ করা হয়। সরকার নিয়ন্ত্রিত এই রেল যাত্রীদের দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে ও আরামের যাত্রা নিশ্চিত করেছে। ২০২০তে মোদি সরকার, সেই দ্রুতগতির যানকে বেসরকারিকরণ করতে চায় বলে অভিযোগ ওঠে। এক একটি স্টেশন পুঁজিপতিদের কাছে বিক্রি করে দিতে চায়।
প্রশ্ন ওঠে,আসলে কেন্দ্র কী দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়ে দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে ? সেই কারণেই কী রেলের আলাদা বাজেট তুলে দিয়ে সাধারণ বাজেটের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া হল ? এই সবপ্রশ্নের কারণ মূলতঃ রেলের লাগাতার দুর্ঘটনা। এক নয়, একাধিকবার দ্রুত গতির যানে চেপে জীবন গেছে যাত্রীদের। তবুও যেন হুঁশ ফিরছে না অশ্বিনী বৈষ্ণোর মন্ত্রকের। এখন ট্রেনে চড়তে ভয় পান রেলযাত্রীরা। মহানাগরিক ফিরহাদ হাকিমও আতঙ্কের রেল যাত্রা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তিনি বলেন ট্রেনে চড়তে গেলেই ভয় লাগছে । টক টু মেয়র অনুষ্ঠানে বাংলার জনপ্রতিনিধি উদ্বেগের সুর শোনান। দেখে নেব, রেল দুর্ঘটনার ধারাবাহিক নজির । মোদি সরকারের আমলে ১৪থেকে ২৪ বেড়েই চলেছে এই দুর্ঘটনার বহর। উত্তরপ্রদেশের সন্ত কবির নগর এলাকায় গোরখপুরগামী গোরখধাম এক্সপ্রেস, খলিলাবাদ স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির পিছনে ধাক্কা মারে। মৃত্যু হয় ২৫জনের। জখম হন ৫০-এর বেশি যাত্রী।
উত্তরপ্রদেশের কানপুরে ইন্দোর পাটনা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয় ১৪৬জন যাত্রী। আহত হয় আরও ২০০-জনের ওপর যাত্রী। এরপরের বছর দেখা যায় সেই ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃত্যুমিছিল। এবার ঘটনাস্থল দক্ষিণভারত। অন্ধ্রপ্রদেশের জগদ্দল থেকে ভূবনেশ্বর যাচ্ছিল হীরাখণ্ড এক্সপ্রেস। বেশকয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়। আবারও জীবন বেলাইন হয় বহু মানুষের। মুজফরফরনগরে পুরী-হরিদ্বার উত্কল এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। দুর্ঘটনায় প্রাণ যায় ২৩জনের।আহত হয় আরও ৭০জন যাত্রী। রেল লাইনের ওপর একটি ট্রাক আটকে যায়। ১০টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় রেলের অব্যবস্থা ও ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়। উত্তরপ্রদেশের আউরিয়ার কাছে দিল্লিগামী কইফিয়ত এক্সপ্রেসের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনায় ৭০জন আহত হয়। উড়িষ্যার বালাসোরে ভয়াবহ করমণ্ডল এক্সপ্রেস দুর্ঘটনা রেলের চরম গাফিলতি ও অবহেলা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। ৩-৩টি ট্রেনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০০জনের কাছে মৃত্যু হয়। ১২০০ জনের ওপর যাত্রী গুরুতর দখম হয়। বালাসোর জংশন ছেড়ে ট্রেনটি বাহানাগা যাওয়ার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। তারপরেও জলপাইগুড়ি ও নলপুরের এই যাত্রীবাহী রেল দুর্ঘটনা কার্যতঃ রেল প্রশাসনের সমন্বয় হীনতাও প্রযুক্তিগত আধুনিকীকরণের ব্যর্থতাকে প্রকট করছে।