ad
ad

Breaking News

Real hero Fazlur saved the lives of passengers

Train Accident: নামাজ পড়েই নামলেন উদ্ধারকার্যে, যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়ে রিয়েল হিরো ফজলুর

ইদের নামাজ শেষ করে তিনি সবে বেরোন,তারপরই আর্তনাদ শুনে ছুটে এসেছিলেন। যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়ে হয়ে ওঠেন উদ্ধারকর্তা।

Real hero Fazlur saved the lives of passengers

Bangla Jago Desk: ইদের নামাজ শেষ করে তিনি সবে বেরোন,তারপরই আর্তনাদ শুনে ছুটে এসেছিলেন। যাত্রীদের প্রাণ বাঁচিয়ে হয়ে ওঠেন উদ্ধারকর্তা। পরোপকারী সেই ফজলুর রহমানই এখন হয়ে উঠেছেন রিয়েল হিরো। বীভত্স দৃশ্য দেখে তিনি নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছেন না। মর্মাহত ফজলুর বলছেন,আর যেন এই ধরণের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা না হয়,শুনতে না হয়,বাঁচাও বাঁচাও চিত্কার।

সোমবার,সপ্তাহের প্রথম দিনেই পালন করা হয় ইদ উত্সব।তাই ধর্মপ্রাণ এই ব্যক্তি নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন মসজিদে।সকাল তখন প্রায় ৮টা ৫ বাজে। নামাজ শেষ করে উঠেছিলেন তিনি।আচমকাই তিনি শুনতে পান বিকট শব্দ।এই ধরণের শব্দ তাঁর জীবতকালে কখনও শোনেননি ফজলুর রহমান।তাই অস্বাভাবিক কিছু হয়েছে ধরে নিয়ে ছুটে আসেন তিনি। নিজের চোখে এক্সপ্রেস ট্রেনের বগির খেলনা গাড়ির মতো লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনা তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য লাগে।যখন তিনি চারিদিকে বাঁচাও বাঁচাও চিত্কার শুনতে পান বা কান্নার শব্দ কানে আসে তখন স্নায়ু শক্ত রেখে শুধুই প্রাণ বাঁচানোর দায়িত্ব নিয়ে ফেলেন নির্মলজোত গ্রামের বাসিন্দা।আহতদের উদ্ধার করে তিনি কর্তব্যপালন করেন।  জীবন-মৃত্যুর মাঝে যাঁদের লড়াই হচ্ছে তাঁদেরই ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করে হয়ে ওঠেন ত্রাতা।স্বেচ্ছায় যিনি কাতরাতে থাকা মানুষগুলোকে বাঁচান তিনি বলছেন,দুর্ঘটনার পরে  পুলিশ চলে এলেও আরপিএফের দেখা মেলেনি।

এই প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান বলছেন,  গত বছর  করমণ্ডল এক্সপ্রেসে দুর্ঘটনার খবর দেখেছিলাম। সবাই সেবার সব দৃশ্য দেখে ঘুমোতে পারেনি।  এ বার যেন নিজের চোখে তারই পুণরাবৃত্তি দেখলাম। একইসঙ্গে তিনি জানান,  দেরি না করে আমরা উদ্ধারকাজে নেমে গিয়েছিলাম। লাইনে উল্টে থাকা একটা বগিতে এক জন আটকে ছিল।তাঁদের উদ্ধার করি।যতদূর সম্ভব প্রাণ বাঁচানোর কাজে যে খামতি ছিল না তাও এই উদ্ধারকারী বুঝিয়ে দেন।কিন্তু কাটার যন্ত্র না থাকায় কামরা থেকে দেহ উদ্ধারে সমস্যা হয়।তবুও হাল ছাড়েননি তিনি।একে একে দেহ উদ্ধার করেন।বুঝিয়ে দেন,যাঁরা বেঘোরে প্রাণ দিয়েছেন তাঁরা তাঁর কাছে প্রিয়জন,সহনাগরিক।মানবতার ডাকে সাড়া দিতে তিনি ঝুঁকি নিতেও প্রস্তুত।

ইদের দিন ধর্মীয় রীতি মেনে বাকি কাজ তার আর করা হয়নি।স্বজনহারানো মানুষগুলোর সহমর্মি হয়ে রয়ে যান তিনি।আল্লার কাছে একটাই প্রার্থনা করেন আর যেন এই মৃত্যুমিছিল দেখতে না হয়।রেলযাত্রীদের পরিবারগুলো বলছেন,ফজলুর রহমানের মতো মানুষগুলো আছে বলেই অকালমৃত্যু এড়ানো যায়।তাই যাঁরা প্রাণ হাতে নিয়ে ট্রেনে চাপেন তাঁরা এই ফজলুর রহমানকে কুর্নিশ করছেন।আমাদের দেশে দুর্ঘটনা ঘটলে অনেকেই জীবন বাজি রেখে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেয়,জীবন স্মৃতিতে সেইসব আনসাং হিরোরা থেকে যান।কেউ তাঁদের স্মৃতিপট থেকে সরিয়ে দেয় না।করমণ্ডল-গাইসাল দুর্ঘটনার সময় এইসব মানুষগুলোই রেল পুলিশ,বিপর্যয় মোকাবিলা টিম পৌঁছানোর আগে পৌঁছে গিয়েছিলেন।তাঁরাই বগির ভিতর থেকে জীবনযুদ্ধের লড়াই করা মানুষগুলোকে সবকিছু ছেড়ে উদ্ধার করেছিলেন।মানবিকতার যে ইতিহাস তাঁরা রচনা করেছিলেন তাঁর জন্য সবাই তাঁদের প্রশংসা করেন।আশা করা যায়,ফজলুর রহমানের থেকে শিক্ষা নিয়ে আরও মানুষ এভাবেই বিপর্যয়-দুর্যোগ বা দুর্ভোগের সময় জীবন সঁপে দেবেন কোনও কিছু না ভেবেই।