ad
ad

Breaking News

Rabindranath Tagore

প্রকৃতি-সচেতনতায় ১০০ বছর আগেই শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপন রবীন্দ্রনাথের

সৌতিক চক্রবর্তী: বাইশে শ্রাবণ। বাঙালির প্রাণের কবি, আবেগের প্রাণপুরুষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস (Rabindranath Tagore)। বৈতালিক, বৈদিক মন্ত্রপাঠ, রবীন্দ্র সঙ্গীত, বিশেষ উপাসনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে শান্তিনিকেতনে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যে মানুষটির অবদান গোটা বিশ্বের কাছে শ্রেষ্ঠ তিনি বাঙালির প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট বাংলা বাইশে শ্রাবণের দিনেই বিদায় […]

Shantiniketan Marks Rabindranath Tagore Death Anniversary

চিত্র: সংগৃহীত

সৌতিক চক্রবর্তী: বাইশে শ্রাবণ। বাঙালির প্রাণের কবি, আবেগের প্রাণপুরুষ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস (Rabindranath Tagore)। বৈতালিক, বৈদিক মন্ত্রপাঠ, রবীন্দ্র সঙ্গীত, বিশেষ উপাসনার মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথের তিরোধান দিবস পালন করা হয়েছে শান্তিনিকেতনে। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যে মানুষটির অবদান গোটা বিশ্বের কাছে শ্রেষ্ঠ তিনি বাঙালির প্রিয় কবি রবীন্দ্রনাথ। ১৯৪১ সালের ৭ আগস্ট বাংলা বাইশে শ্রাবণের দিনেই বিদায় নিয়েছিলেন বিশ্বের কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

[আরও পড়ুন: Defence Upgrade: ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে বড় পদক্ষেপ, পুরনো চেতক ও চিতার বদলে আসছে ২০০টি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার]

তিনি না থাকলেও, তাঁর লেখা গান, কবিতা, ছোটো গল্প, উপন্যাস, বাঙালির হৃদয় জুড়ে। তিনি লেখক, শিল্পী, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, তিনি বাঙালির মননে, অন্তরে। প্রিয়কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেশি সময় কাটিয়েছেন শান্তিনিকেতনে। তাই শান্তিনিকেতন তার নিজস্ব ঢঙে প্রাণপ্রিয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী পালন করছে।

রবীন্দ্রনাথ তিনি নিজেই বিশ্বাস করতেন জন্মিলে মরিতে হবে। তাই তার জন্মদিন যেন শুধু দুঃখ, চোখের জল দিয়ে না কাটে। তাইতো শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতেও সপ্তাহব্যাপী চলে উৎসব (Rabindranath Tagore)। আজও আমরা ভাবি বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ গ্রীষ্মের দাবদহে প্রকৃতিকে বাঁচানোর জন্য গাছ লাগানোর কথা। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তিনি ১০০ বছর আগে বৃক্ষ রোপনের কথা বলে গেছেন। স্বাভাবিকভাবেই রবীন্দ্র তিরোধান দিবসে শান্তিনিকেতনে ঘটা করে পালন হয় বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠান।

২২শে শ্রাবণ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষে এক সপ্তাহব্যাপী গুরুদেবের তিরোধান দিবস পালন করবে বিশ্বভারতী। বাইশে শ্রাবণ ভোর বৈতালীক, আশ্রমে অধ্যাপক, কর্মী, আশ্রমিক, পড়ুয়ারা সকলেই রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে গাইতে গুরুদেবের আশ্রম প্রাঙ্গণ পরিক্রমা করে। এরপর সকাল সাতটা কবির তিরোধান দিবসে বিশেষ মন্দির। বৈদিক মন্ত্রপাঠ, রবীন্দ্র সংগীতের মধ্য দিয়ে বিশেষ ব্রহ্ম উপাসনা মন্দিরে। উপাসনায় উপস্থিত বিশ্বভারতীর উপাচার্য অধ্যাপক প্রবীর কুমার ঘোষ, ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক, কর্মী, আশ্রমিক সকলে।

সকাল আটটা, রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে প্রথম আসার পর যে বাড়িতে ব্যবহার করতেন সেই শান্তিনিকেতন গৃহ থেকে ‘আগুনের পরশমণি, ছোঁয়াও প্রাণে, এজীবন পূর্ণ কর…’ রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইতে গাইতে সমবেত আশ্রমের মানুষজন পৌঁছে যান রবীন্দ্রনাথের অন্যতম বাসভবন উদয়ন গৃহে। উদয়ন বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত চেয়ারে এক এক করে সকলেই পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানানো। বিকালে কবিগুরুর দেখানো পথ বৃক্ষরোপন অনুষ্ঠান হয়।

[আরও পড়ুন: Cristiano Ronaldo: ব্যালন ডি’অরকে নিয়ে তোপ সিআর সেভেনের]

এই অনুষ্ঠান হয় শান্তিনিকেতনের আম্রকুঞ্জতে (Rabindranath Tagore)। মানুষের মনে ফিরে আসে রবীন্দ্র চেতনা। ফিরে ফিরে আসে প্রকৃতি ভাবনা। যে বৃক্ষ রোপনের প্রয়োজনীয়তার কথা ১০০ বছর আগে ভেবেছিলেন আজ তা যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। যেভাবে প্রকৃতির দূষণ বাড়ছে, বাড়ছে প্লাস্টিক দূষণ, বৃক্ষ নিধন চলছে সর্বত্র, হারিয়ে যাচ্ছে সবুজ বনানী, প্রকৃতি হারাচ্ছে তার ভারসাম্য, সেই সময় প্রাণের কবি রবীন্দ্রনাথের সেই প্রকৃতি ভাবনাকে আমাদের আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরতেই হবে। বাঁচাতে হবে এ বিশ্বকে। আগামী প্রজন্মের জন্য এই বিশ্বকে বাসযোগ্য করে তুলতে হবে। রবীন্দ্র ভাবনাকে সাথী করে সেই পথে এগিয়ে যেতে হবে সকলকে।