চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk: জীবনদায়ী ওষুধ নিয়ে চলছে ভয়ঙ্কর ছিনিমিনি। জাল ও নিম্নমানের ওষুধ বাজারে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এখন আর নতুন নয়, বরং প্রায়শই বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ধরা পড়ছে। মানুষের জীবন রক্ষাকারী ওষুধই যদি হয়ে ওঠে মৃত্যুর কারণ, তাহলে তা নিঃসন্দেহে এক চরম বিপদ সংকেত।
সম্প্রতি কলকাতার বড়বাজার সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার শহর বর্ধমানের একাধিক ওষুধ দোকানে হানা দিয়েছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল। সেখানে বিপুল পরিমাণে সন্দেহজনক, জাল এবং গুণমানহীন ওষুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। শুধু সাধারণ সর্দি-কাশির ওষুধ নয়, অ্যান্টিবায়োটিক, রক্তচাপ, স্নায়ু ও অ্যালার্জির মতো গুরুত্বপূর্ণ ওষুধও রয়েছে এই তালিকায়। গুণমানের পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া ৫১টি ওষুধের ব্যাচ নম্বর প্রকাশ করে বিক্রেতাদের সেই ওষুধ বাজার থেকে তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোল।
এই জালিয়াতি রুখতে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ৩০০টি গুরুত্বপূর্ণ ওষুধে কিউআর কোড লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সেই কোড স্ক্যান করে যাচাই করা যায় ওষুধের উৎপত্তিস্থল ও গুণমান। কিন্তু ওষুধ ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের পক্ষে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ওষুধ যাচাই করা এখনও অত্যন্ত কঠিন। ফলে গোড়া থেকে অর্থাৎ উৎপাদন স্তরেই কড়া নজরদারি দরকার বলে দাবি করছেন তারা।
বর্ধমানের একাধিক ওষুধ বিক্রেতা জানিয়েছেন, তারা সরাসরি ওষুধ কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে ওষুধ সংগ্রহ করেন। ফলে প্রস্তুতকারকের প্রতারণার দায় তাদের উপর বর্তায় না। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন পর্যায়ে নজরদারির উপরই জোর দিচ্ছেন সবাই।
এই ভেজাল ওষুধ কারবারে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও চিকিৎসা মহল। তাঁদের বক্তব্য, রোগ সারানোর বদলে এসব ওষুধে রোগ আরও বাড়ছে, রোগী মৃত্যুর মুখে ঠেলে যাচ্ছে—এ এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। ওষুধ নিয়ে এই ভয় ছড়িয়ে পড়ছে সমাজে। ফলে রোগীরা নিরাপদ অনুভব করছেন না, যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে এক উদ্বেগজনক সংকেত।