ad
ad

Breaking News

Sundarbans

“শুধু মুখে নয়, চিহ্নিত করতেই হবে নিষিদ্ধ অঞ্চল” — হাইকোর্টের কড়া বার্তা রাজ্যকে

অসতর্কতায় তাঁরা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করে ফেলেন এবং সেই সময় এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরাপদের উপর।

চিত্র : সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: সুন্দরবনের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের অধিকার রক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এক জটিল চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্টের এক মামলার রায়ে এই বিষয়টিই বিশেষভাবে উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে। গোসাবার লাহিড়িপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা নিরাপদ মণ্ডল অন্যান্য জেলেদের সঙ্গে সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়েছিলেন। অসতর্কতায় তাঁরা জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করে ফেলেন এবং সেই সময় এক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়ে নিরাপদের উপর। ঘাড়ে গুরুতর কামড়ের ফলে তাঁর মৃত্যু হয়। সঙ্গীরা চেষ্টা করেও তাঁকে রক্ষা করতে পারেননি। ঘটনাটি স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ও ময়নাতদন্তে বাঘের আক্রমণের কারণেই মৃত্যু বলে উল্লেখ করা হয়।

পরিবার বারবার রাজ্যের কাছে ক্ষতিপূরণের আবেদন জানালেও তা মঞ্জুর করা হয়নি। তাদের আবেদন খারিজ করে রাজ্যের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, নিরাপদ মণ্ডল অনুমতি ছাড়া ‘কোর এরিয়া’ বা বাঘ সংরক্ষিত অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন, তাই ক্ষতিপূরণের অধিকারী নন।

এই অবস্থায় নিরাপদের পরিবার কলকাতা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করে। বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলার শুনানিতে রাজ্যের যুক্তি ছিল, ‘কোর এরিয়া’ একটি নিষিদ্ধ এলাকা এবং সেখানে প্রবেশ করলে ক্ষতিপূরণ প্রযোজ্য নয়।

তবে বিচারপতি স্পষ্টভাবে জানতে চান — কোর এরিয়া আদৌ চিহ্নিত করা হয়েছে কি না। রাজ্য জানায়, জলের মধ্যে কোনও বেড়া বা সীমারেখা টেনে চিহ্নিত করা সম্ভব নয়।

এই যুক্তিকে গ্রহণ করেননি আদালত। বরং, বিচারপতি বলেন, যদি ‘কোর এরিয়া’ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত না করা থাকে, তবে সাধারণ মানুষ কখন কোথায় প্রবেশ করছেন, তা তারা জানবেন কী করে? শুধু কথায় ‘নিষিদ্ধ এলাকা’ বললেই চলবে না, তার স্পষ্ট সীমারেখা থাকতে হবে।

ফলে বিচারপতি অমৃতা সিনহার রায়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে প্রথমত ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না—যেহেতু ওই অঞ্চলকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত ‘কোর এরিয়া’ বলা হয়নি, তাই নিরাপদ মণ্ডলের পরিবার ক্ষতিপূরণের যোগ্য। দ্বিতীয়ত কোর এরিয়া চিহ্নিতকরণ জরুরি—রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অঞ্চলগুলিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে এবং তৃতীয়ত মৌখিক দাবি যথেষ্ট নয়—আইনগতভাবে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না হলে সাধারণ নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। এই রায় সুন্দরবনের মতো সংবেদনশীল পরিবেশগত অঞ্চলে বসবাসকারী ও জীবিকা নির্বাহকারী মানুষদের অধিকারের পক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।