চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে ক্ষমতা বদলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ভাঙন ও দলবদলের খেলা যেন এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই ডামাডোলের মাঝেই রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছিল প্রতীক উর রহমানকে নিয়ে। বামপন্থার ‘কাস্তে-হাতুড়ি’ ছেড়ে আচমকাই ‘ঘাসফুল’ শিবিরে যোগ দিয়ে একসময় শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন এই যুবনেতা। রাজনৈতিক মহলে চর্চা ছিল, প্রতীক উরের এই দলবদলের নেপথ্যের আসল কারিগর ছিলেন কসবার বাসিন্দা তথা সদ্য বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়েকমাসের ব্যবধানে সেই ঋতব্রতই এখন দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত। আর এই ঘটনাতেই প্রশ্ন উঠছিল, ঋতব্রতর বিদায়ের পর তবে কি এবার প্রতীক উরও তৃণমূল ছাড়ছেন? অবশেষে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এই বিষয়ে নিজেই মুখ খুললেন তৃণমূলের এই তরুণ মুখপাত্র।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহিষ্কার প্রসঙ্গে প্রতীক উর রহমান অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটাই তাঁর শেষ কথা। এখানে দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।
ঋতব্রতর হাত ধরে তাঁর তৃণমূলে যোগদানের তত্ত্বটি এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে প্রাক্তন এই বামনেতা বলেন, “আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমি ঋতদার হাত ধরে দলে আসিনি। আমি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই দলে এসেছি। ঋতদা দলে ছিলেন, তাই স্বাভাবিকভাবে ওঁর সাথে কথা হতো, ওঁর কসবার অফিসেও যেতাম। এর বেশি কিছু নয়।” প্রতীক উরের এই দৃঢ় বয়ানে একটা বিষয় পরিষ্কার যে, ক্ষমতা হারানোর এই কঠিন পর্বেও তিনি তৃণমূলের সঙ্গেই থাকছেন।
বর্তমানে তৃণমূলের অন্দরে চলা সই জাল জালিয়াতি থেকে শুরু করে বিধায়কদের ক্ষোভ, সব কিছুর নেপথ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির গভীর চক্রান্তকেই দেখছেন প্রতীক উর। গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “বিজেপি এবং আরএসএস (RSS) ঘরের মধ্যে ঘর করায় বিশ্বাসী। ওরা সব জায়গায় ভাঙন ধরানোর নোংরা রাজনীতি করে। এখানেও সেই একই চেষ্টা চলছে। তবে একটা কথা মনে রাখবেন, বাংলায় ওরা ৪৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে ঠিকই, কিন্তু বাকি ৫৫ শতাংশ ভোট কিন্তু অন্য দলগুলোর বাক্সে পড়েছে। অর্থাৎ আমজনতা পুরোপুরি ওদের সঙ্গে নেই।”
এদিন সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া ডিম ও ইট হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানান প্রতীক উর রহমান। তাঁর দাবি, এটি কোনও সাধারণ জনরোষ নয়, বরং বিদায়ী সাংসদকে প্রকাশ্য রাস্তায় খুন করার একটা সুনিপুণ চক্রান্ত ছিল।
এই হামলার পর সমাজমাধ্যমে বিখ্যাত জার্মান পাদ্রী মার্টিন নিম্যোলারের একটি কালজয়ী কবিতার লাইন তুলে ধরে প্রতীক উর লেখেন, “আজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ হল। আপনি চুপ, কারণ আপনি তৃণমূল নন। কাল কোনও সম্প্রদায়ের উপর আক্রমণ হবে। আপনি চুপ, কারণ আপনি ওই সম্প্রদায়ের লোক নন। পরশু যখন আপনার উপর আক্রমণ হবে, তখন আপনার পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ থাকবে না, কারণ আপনিও সঠিক সময়ে প্রতিবাদ করেননি।” খারাপ সময়ে দলের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতীক উরের এই বার্তা এই মুহূর্তে রাজনৈতিক অলিন্দে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।