চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: সোমবার, ৪ মে, ২০২৬। ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মসনদে গেরুয়া শিবিরের এই ঐতিহাসিক জয়কে ঘিরে আজ উৎসবের আমেজ নয়াদিল্লির বিজেপি সদর দফতরে। বঙ্গজয়ের আনন্দে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন যেন বাংলার সাথে একাত্ম হয়ে উঠলেন। পরনে ময়ূরপুচ্ছ ধুতি আর পাঞ্জাবি, এই ‘বাঙালি বাবু’র সাজে যখন তিনি মঞ্চে এলেন, তখন চারিদিকে জয়ের উল্লাস।
দিল্লির সদর দফতরে কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত মাতা কি জয়। আজকের দিন ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব। দলের সব কর্মীদের আনন্দে আমি অংশীদার। আজ বিশ্বাসের দিন। এক ভারত, শ্রেষ্ঠ ভারতে বিশ্বাসের দিন। আজ গণতন্ত্রে ভরসার দিন।” তিনি আরও বলেন, “বাংলা, কেরল, তামিলনাড়ু, অসম, পুদুচেরির মানুষকে প্রণাম জানাই। আজ নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে।”
বাংলার এই পরিবর্তনকে প্রধানমন্ত্রী এক নতুন যুগের সূচনা বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর কথায়, “বাংলায় পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আজ থেকে বাংলা ভয়মুক্ত হল।” বাংলার সঙ্গে বিজেপির আদর্শিক সংযোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয়ের পর ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আত্মা শান্তি পেল।”
এদিন পশ্চিমবঙ্গের এবারের নির্বাচনে ৯৩ শতাংশ ভোটদানের হারকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে উল্লেখ করেন মোদী। তিনি বলেন, “এটি গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়।” নির্বাচনের এই ব্যাপক জনসমর্থনকে ভারতের ক্রমবর্ধমান গণতান্ত্রিক শক্তির নিদর্শন হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে এদিন ছিল এক কাব্যিক আবেগ। গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর পর্যন্ত বিজেপির এই জয়ের বিস্তৃতিকে তিনি ‘পদ্ম ফুটেছে’ বলে বর্ণনা করেন। তিনি স্মৃতিচারণ করেন, “বিহারে ভোটের ফলের দিনই আমি বলেছিলাম, গঙ্গা বিহার হয়ে গঙ্গাসাগরে যায়। আজ গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, সর্বত্র পদ্ম ফুটেছে।”
বিজেপি সদর দপ্তরে এদিন আবির আর ‘চাই বিজেপি সরকার’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত ছিল। মোদির এই ভাষণ কেবল জয়ের উদ্যাপন নয়, বরং বাংলার হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনা এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার এক দৃঢ় সংকল্পের বার্তা হয়ে রইল। বাংলার মানুষ যে আশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ওপর ভরসা রেখেছে, আজ তা পূর্ণ করার শপথই নিল গেরুয়া শিবির।