চিত্র: সংগৃহীত
স্ত্রী-কে খুন করে তাঁরই কাটা মুণ্ডু নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেরিয়েছিলেন। পটাশপুরের (Patashpur Murder) এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড মামলায় দোষী সাব্যস্ত অভিযুক্ত স্বামী গৌতম গুচ্ছাইতকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল কাঁথি মহকুমা আদালত। সেই সঙ্গে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করলে অতিরিক্ত এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শুভদীপ চৌধুরী। শনিবার এই সাজা ঘোষণা করেছে আদালত।
প্রায় ২২ মাস চলা এই মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে দু’জন প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলেন। আদালতে অভিযুক্তের পক্ষ থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনতার যুক্তি তুলে ধরা হলেও তা গ্রহণযোগ্য হয়নি। সওয়াল–জবাব ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত গৌতমকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করে। মৃত স্ত্রী ফুলরানির ভাই প্রশান্ত দাস অধিকারী ফাঁসির দাবি তুলে বলেন, “বোনকে যেভাবে খুন করা হয়েছে তাতে ওর যাবজ্জীবন সাজা যথেষ্ট নয়। আমরা ফাঁসি চাই।”
এই মামলার সরকারি আইনজীবী জানান, “গৌতম মানসিক ভারসাম্যহীন বলে আদালতে দাবি করে আসামীপক্ষ। আদালত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সেই দাবি নাকচ করে। পূর্ব মেদিনীপুরে এমন জঘন্যতম ও নৃশংস হত্যাকাণ্ড আগে ঘটেনি (Patashpur Murder)।”
২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ভ্যালেন্টাইনস ডের দিন স্ত্রী ফুলরানি গুচ্ছাইতের খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী গৌতম গুচ্ছাইতকে সেইদিনই গ্রেফতার করে পুলিশ। তদন্তে উঠে আসে, পরকীয়ার সন্দেহের জেরে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন করে গৌতম, ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীর মুণ্ডু কেটে দেয়। খুনের পর স্ত্রীর কাটা মুণ্ডু নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রামে ঘোরাফেরা করতে দেখে প্রত্যক্ষদর্শীরা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। গৌতমকে সেদিনই আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জেলেই ছিলেন (Patashpur Murder)।