নিজস্ব চিত্র
Bangla Jago Desk: পরিবেশবান্ধব সুন্দরবনে বাড়ছে ব্যাটারি চালিত নৌকার সংখ্যা। সৌরশক্তির সাহায্যে পাথরপ্রতিমায় চালানো হচ্ছে নৌকা। মুড়িগঙ্গা নদী দিয়ে ধোঁয়াবিহীন নৌকায় দিব্যি পারাপার করছে যাত্রীরা। আগে যেখানে ৬০০ মিটার নদী পারাপার করতে সময় লাগতো ২০ মিনিট,এখন সেখানে ১৫ মিনিটে নদী পারাপার করা যাচ্ছে। এতে খুশি যাত্রীরাও।
নদীর বুক চিড়ে ছুটে চলেছে নৌকা। কোনও শব্দ নেই,বেরোচ্ছে না ধোঁয়া। আগে ইঞ্জিনের মাধ্যমে যে নৌকা চলতো তাতে কানফাটা শব্দ হত। অতীতে সেই নৌকায় তেল ব্যবহার করা হতো.যারজন্য ইঞ্জিনে চলা নৌকা থেকে দূষণ ছড়াতো। এখন ব্যাটারিচালিত নৌকায় কোনওরকম দূষণ হয় না,শোনা যায় না শব্দও।
পাথরপ্রতিমার নিঃশব্দ এই জলযান গণপরিবহণকে পরিবেশবান্ধব ও যাত্রীসুখকর করে তুলছে। যুধিষ্ঠির জানার খেয়াঘাট ও বনশ্যামনগরের খেয়াঘাটে এই ব্যাটারি চালিত নৌকার মাধ্যমে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। ব্যাটারি গুলিকে চার্জ করার জন্য খেয়া ঘাটের পাশে সোলারের একটি প্রজেক্ট তৈরি করা হয়েছে। প্রতিদিন রাতে নৌকা থেকে দুটি ব্যাটারি খুলে নিয়ে গিয়ে সোলারের ওই প্রোজেক্টে চার্জ দেওয়া হয়।
[আরও পড়ুন: স্যুটকেসের ভরে হস্টেলে গার্লফ্রেন্ডকে ঢোকানোর চেষ্টা, ভাইরাল ভিডিও]
সকালে চার্জ সম্পূর্ণ হয়ে গেলে আবারও ওই ব্যাটারি খুলে নিয়ে এসে নৌকাতে লাগিয়ে যাত্রীদের নদী পারাপার করা হয়। দুটি ব্যাটারিতে সেন্সর বসানো রয়েছে। ওই দুটি ব্যাটারিতে কত শতাংশ চার্জ রয়েছে নৌকার মাঝি নিজের মোবাইলেই তা দেখে নিতে পারেন।
দুটি ফেরি সার্ভিস ঘাটে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাটারি চালিত নৌকা চালানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে এই ব্লকের বাকি সব ফেরিঘাট গুলিতেও একই পদ্ধতিতে নৌকা চালানো হবে।প্রবীণ যাত্রীরা চাইছেন,নিঃশব্দের এই জলযানই যোগাযোগের সুরাহা করুক। কারণ তাতে পরিবেশ বাঁচবে,বাঁচবে সুন্দরবন। শব্দের হুঙ্কারে আগে এই যাত্রীদের জীবন জেরবার হত, এখন নিঃশব্দের নৌকা পরিষেবা সুস্থজীবন যাপনের সুবিধা করে দিচ্ছে বলাই যায়।