ad
ad

Breaking News

Panihati

পানিহাটিতে রক্তারক্তি কাণ্ড! রাস্তায় প্রেমিকার নলি কেটে খুন, আত্মহত্যার চেষ্টা যুবকের

সাতসকালে এমন নৃশংস চিৎকার শুনে বাজার করতে বেরোনো স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।

Man Slits Lover's Throat, Stabs Himself in Panihati

চিত্র: প্রতীকী

Bangla Jago Desk: পানিহাটিতে বুধবার সাতসকালে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা রক্তক্ষয়ী কান্ড! প্রকাশ্য রাস্তায় প্রেমিকার নলি কেটে নৃশংসভাবে খুন করার পর, নিজের বুকেও ছুরি চালাল এক ব্যক্তি। সোদপুর ফিউচার গেটের সামনে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি চাক্ষুষ করে আতঙ্কে কাঁপছে গোটা এলাকা। রক্তাক্ত অবস্থায় দু’জনকেই উদ্ধার করে সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মহিলাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ওই ঘাতক প্রেমিক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম গীতা দাস (৪০)। তাঁর প্রেমিক সুভাষ দাস (৪৫) বুধবার সকাল সকাল সোদপুর ফিউচার গেটের সামনে আচমকাই গীতার ওপর চড়াও হয়। কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই সুভাষ একটি ধারালো ছুরি বের করে গীতার গলায় ও শরীরে একের পর এক কোপ বসাতে শুরু করে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তার ওপরেই লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা। সাতসকালে এমন নৃশংস চিৎকার শুনে বাজার করতে বেরোনো স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানিরা ঘটনাস্থলের দিকে ছুটে যান।

সেখানে উপস্থিত কয়েকজন সাহসী যুবক সুভাষকে আটকানোর চেষ্টা করলে, উন্মত্ত সুভাষ তাঁদের দিকেও ছুরি উঁচিয়ে তাড়া করে বলে অভিযোগ। এরপরই চারপাশ থেকে লোক জড়ো হতে দেখে বেগতিক বুঝে নিজের পেটে ও বুকে নিজেই ছুরি চালাতে শুরু করে সুভাষ। চোখের পলকে ফিউচার গেটের সামনের রাস্তা রক্তে ভেসে যায় এবং দু’জনেই সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে পড়ে থাকেন। খড়দহ থানার পুলিশকে খবর দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়রা দু’জনকেই উদ্ধার করে কামারহাটির সাগরদত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা গীতাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন এবং সুভাষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউ-তে (ICU) স্থানান্তরিত করা হয়।

“ওরা এলাকার কেউ নয়”, নেশার সিন্ডিকেট নিয়ে সরব বাসিন্দারা

এই ভয়াবহ ঘটনার পর পানিহাটি জুড়ে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা শিউরে উঠে বলেন, “আমি সকালে চা খেতে বেরিয়েছিলাম। হঠাৎ দেখি একটা লোক মেয়েটাকে কোপানোর পর নিজের ওপরেই ছুরি চালাচ্ছে। আমরা গিয়েও আটকাতে পারিনি। তবে এরা কেউই আমাদের এলাকার বাসিন্দা নন, বাইরে থেকে এসেছিলেন।” অন্য এক প্রতিবেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফিউচার গেটের পাশেই একটি বড় পুকুর রয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা বহিরাগত ছেলে-মেয়েদের ভিড় জমে এবং প্রকাশ্যেই চলে নেশার আসর। গত কালও অন্য এক যুগলকে সেখানে চরম ঝামেলা করতে দেখে এলাকাবাসী তাড়িয়ে দিয়েছিল। এই ধরণের অসামাজিক কাজকর্ম অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী।

পরকীয়া নাকি অন্য কোনও আক্রোশ? খড়দহ থানার পুলিশ শুরু করল ম্যারাথন তদন্ত

খড়দহ থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরিটি উদ্ধার করেছে এবং এলাকাটি ঘিরে রাখা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, গীতা ও সুভাষের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে তাঁদের সম্পর্কে কোনও তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশ ঘটেছিল কি না, কিংবা কোনও আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিবাদ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গীতা দাসের মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুভাষ দাসের জ্ঞান ফিরলে তাকে জেরা করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ জানা যাবে বলে মনে করছেন লালবাজার ও বারাকপুর কমিশনারেটের তদন্তকারী আধিকারিকরা।