চিত্রঃ নিজস্ব
Bangla Jago Desk:পূর্ব বর্ধমানের রায়না ১ ব্লকের পলাশন গার্লস হাই স্কুল সাফল্যের সঙ্গে ২৫ বছর পূর্ণ করলো। এই বিশেষ মাইলফলক উদযাপন করতে আজ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ের রজত জয়ন্তী বর্ষের এই আনন্দঘন অনুষ্ঠানে এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন দেখা গেল, যেখানে স্কুলের দীর্ঘদিনের পথচলার ইতিহাস জীবন্ত হয়ে উঠলো।
অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয় বিদ্যালয়ের প্রবেশদ্বারে জ্ঞানের প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে। এই প্রদীপ শুধু আলোই বিকিরণ করেনি, বরং বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পঁচিশ বছরের জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্যকেও তুলে ধরে। এরপর সমবেত কণ্ঠে ধ্বনিত হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই উদ্দীপনাময় গান – “আগুনের পরশমণি লাগাও প্রাণে”। এই গান যেন সকলের মনে নতুন করে উদ্দীপনা আর আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগায়।
রজত জয়ন্তীর এই বিশেষ শোভাযাত্রাটি ছিল এক আনন্দ ও স্মৃতিময় কোলাজ। বিদ্যালয়ের জন্মলগ্ন থেকে যে সমস্ত মানুষজন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁরা এই শোভাযাত্রায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। সেই সময়ের পরিচালনা কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাবৃন্দ, সকলের পদচারণায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে। তাঁদের স্মৃতিচারণা ও অভিজ্ঞতার ঝুলি যেন বর্তমান প্রজন্মের শিক্ষক ও ছাত্রীদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ।
পাশাপাশি, শোভাযাত্রায় বর্তমান ছাত্রীদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। তাদের রঙিন পোশাকে, আনন্দপূর্ণ পদক্ষেপে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এক নতুন তারুণ্যে ভরে ওঠে। প্রাক্তন ছাত্রীদের উপস্থিতিও ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের আঙিনা ছেড়ে যাওয়া এই প্রাক্তনীরা আজ আবারও একত্রিত হয়েছিলেন তাদের প্রিয় শিক্ষাঙ্গনের ২৫ বছর পূর্তির উৎসবে। তাদের উজ্জ্বল মুখগুলি যেন বিদ্যালয়ের সাফল্যের জীবন্ত প্রমাণ।
এছাড়াও, এলাকার বহু শিক্ষানুরাগী মানুষজন এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন। শিক্ষাকে যারা সমাজের ভিত্তি হিসেবে দেখেন এবং বিদ্যালয়ের অগ্রগতিতে সর্বদা পাশে থাকেন, সেই সমস্ত গুণীজনের উপস্থিতি বিদ্যালয়ের প্রতি তাদের গভীর ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
এই শোভাযাত্রাটি কেবল একটি আনন্দ মিছিল ছিল না, এটি ছিল বিদ্যালয়ের দীর্ঘ পঁচিশ বছরের পথ চলার প্রতিচ্ছবি। যেখানে মিশে ছিল বহু মানুষের স্বপ্ন, শ্রম এবং ভালোবাসা। পলাশন গার্লস হাই স্কুলের রজত জয়ন্তী উদযাপন শুধু বর্তমান প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে না, বরং আগামী দিনেও এই বিদ্যালয় জ্ঞানালোকের দিশারী হয়ে উঠবে – এমনটাই আশা এলাকাবাসী ও বিদ্যালয় পরিবারের সকলের। এই দিনের আনন্দ আর উদ্দীপনা সকলের হৃদয়ে দীর্ঘকাল অমলিন থাকবে।