চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে একটি চিঠি পাঠান। কিন্তু বিধানসভা সচিবালয় সেই চিঠি পত্রপাঠ খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নিয়মানুযায়ী কোনও ব্যক্তি বা দলের শীর্ষ নেতা এককভাবে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করতে পারেন না। পরিষদীয় দলকে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে চিঠি দিতে হবে এবং কতজন বিধায়কের সমর্থনে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন, তার অফিশিয়াল রেজোলিউশন কপি জমা দিতে হবে।
এরপরই তড়িঘড়ি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেতৃত্বে এক জরুরি বৈঠক সারে তৃণমূল পরিষদীয় দল। বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতা মনোনীত করে রেজোলিউশন কপি বিধানসভায় জমাও দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও শুক্রবার জট কাটেনি।
শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বিধানসভা কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ করছে। স্পিকার নাকি এবার তৃণমূলের ৮০ জন বিধায়কের সই করা একক রেজোলিউশন কপি দাবি করছেন। প্রবীণ এই নেতার দাবি, “সংসদীয় বা বিধানসভার নিয়মে এমন ৮০ জনের সই চাওয়ার কোনও দস্তুর নেই। আমাদের পরিষদীয় দল নিয়ম মেনে রেজোলিউশন পাঠানোর পরেও বিরোধী দলনেতার বসার ঘরটি তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছে।”
বিধানসভা সূত্রের পাল্টা দাবি, তৃণমূলের পাঠানো প্রথম নথিতে আইনি ত্রুটি ছিল এবং কতজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন তার স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। এই টানাপোড়েনের মাঝেই শুক্রবার দুপুর ১টা বাজতেই বিধানসভার অলিন্দে তৈরি হয় উত্তাল পরিস্থিতি। বন্ধ ঘরের সামনেই ব্যানার-পোস্টার নিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন ঘাসফুলের বিধায়করা। নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনের শুরুতেই বিরোধী দলনেতার পদ নিয়ে এই বেনজির অচলাবস্থা রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দিল।