চিত্র: নিজস্ব
Bangla Jago Desk: কোচবিহারের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা উত্তমকুমার ব্রজবাসী। বহুদিনের বাসিন্দা। গত জানুয়ারি মাসে এনআরসি সংক্রান্ত একটি চিঠি পান তিনি। ডাকযোগে তাঁর কাছে আসে সেই চিঠি(NRC Notice)। তবে চিঠিটি যে এনআরসি-র তা বুঝতে পারেননি তিনি। ফলে বিষয়টি খুব একটা গুরুত্ব দেননি তিনি। চিঠির বয়ান অনুযায়ী, অসম সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছেন উত্তর কুমার ব্রজবাসী। আগামী ১৫ জুলাই-এর মধ্যে উত্তরকুমারকে অসমের কামরূপ জেলা পুলিশ সুপারের কাছে হাজিরা দিতে হবে। তিনি যে ভারতীয় সেই সংক্রান্ত প্রমাণ্য নথিও নিয়ে যেতে বলা হয়েছে তাঁকে। আর এই নথি তাঁর কাছে না থাকলে পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি বুঝতে পেরে চিন্তায় পড়েছেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন ব্রজবাসী। বিষয়টি জানাজানি হতেই শুরু হয় চর্চা।
[আরও পড়ুনঃ Gujarat Bridge Collapse: গুজরাটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! ভাঙল ব্রিজ, বাড়ছে মৃতের সংখ্যা]
উত্তমকুমার ব্রজবাসী জানিয়েছেন, জন্ম থেকেই এখানকার বাসিন্দা তিনি। ঠাকুরদা-বাবা সবাই বাংলাতেই থাকতেন। কোনও দিন অসমে যাননি বলেও দাবি করেছেন উত্তর কুমার ব্রজবাসী(NRC Notice)। এরপরেও কীভাবে এই নোটিশ তাঁকে পাঠানো হল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না তিনি। কার্যত অসহায় হয়ে পড়া উত্তম কুমারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দল। শাসক দলের তরফে জানানো হয়েছে, ‘পিতৃপুরুষের ভিটেমাটি থেকে বাঙালিকে উৎখাত করতে চায় বিজেপি। কেড়ে নিতে চায় নাগরিকত্ব। কোচবিহারের দিনহাটায় বংশ পরম্পরায় বসবাসকারী উত্তমকুমার ব্রজবাসীকে অসম থেকে এনআরসি-র নোটিশ পাঠিয়েছে মোদি সরকার। বাংলা-বিরোধী বিজেপির মুখোশ আবার খুলে গেছে। বাংলায় এসব চলবে না। বাংলার মানুষ বাংলাতেই থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় বাংলার পাশে আছেন।’
FB POST: https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
উত্তম কুমার ব্রজবাসীর জন্ম ১৯৭৫ সালে৷ জন্মের পর থেকে তিনি কোচবিহারের বাইরে যাননি৷ তাঁর বাবা স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ছিলেন৷ এই অঞ্চলে তারা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করেন৷ বাংলাদেশে যাওয়া দূরস্থান, সেখানে তাদের কোনও দূর সম্পর্কের আত্মীয় পর্যন্ত নেই৷ ১৯৬৬ ও ১৯৮৮ সালের ভোটার তালিকা তারা জমা দিয়েছেন৷ দুইটি তালিকাতেই তাঁর বাবার নাম ছিল৷ পাশাপাশি উত্তমকুমারের নামও পরে ভোটার তালিকায় ওঠে(NRC Notice)৷ সেই তালিকা তিনি জমা দিয়েছেন৷ এদিকে, অসমের আইনে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ-এর পর বাংলাদেশ থেকে অসমে ঢুকলে তা অবৈধ বলে মনে করা হবে৷ সিএএ যখন হয়েছে, তখন সেই সিলিং-এর পরিবর্তন হয়েছে৷ তবে তা অসমের ক্ষেত্রে ধার্য হবে কি না, তা বলা হয়নি৷ অসমের আইন বলছে, ১৯৬৫-র আগে যারা সেখানে ঢুকেছেন, তাদের নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই৷ অন্যদের ট্রাইবুন্যাল ডাকতে পারে, নথি পেশ করতে বলতে পারে৷ নথি নিয়ে তারা তদন্ত করতে পারে৷ প্রশ্ন হল, পশ্চিমবঙ্গের কোনও বাসিন্দার ক্ষেত্রে তারা এই কাজ করতে পারে কি? ফলে বিতর্ক শুরু হয়েছে।