ad
ad

Breaking News

দশভূজা নয়! ৪৫০ বছর ধরে “অষ্টাদশভূজা” রূপে মা পূজিত হন

৪৫০ বছর ধরে চলা এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ সেখানকার দেবী মূর্তি।

চিত্রঃ নিজস্ব

Bangla Jago Desk: শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা বহু প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে বিবেচিত হয়। সুপ্রাচীন স্থাপত্য, ভাস্কর্য, ঐতিহাসিক স্থান, রাজবাড়ি, বিভিন্ন সতী পীঠ এরাজ্যের অন্যতম নিদর্শন। বাংলার বিভিন্ন বাড়িতে পরম্পরা অনুযায়ী বহু বছর ধরে সাবেকী পুজো চলে আসছে। তেমনই এক পুজো হয় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অন্তর্গত কেশপুরের গড়সনাপোতা গ্রামের দেব পরিবারে। ৪৫০ বছর ধরে চলা এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ সেখানকার দেবী মূর্তি। শরৎ কালীন শারদীয়া মা দুর্গার প্রতিমা সাধারণত দশভূজা। তবে, এখানে মা পূজিত হন “অষ্টাদশভূজা” রূপে। পশ্চিমবঙ্গের অদ্বিতীয় এই দুর্গা প্রতিমা সারা বছর ধরে কংক্রিটের মূর্তি মন্দিরে পূজিত হন।( Paschim Medinipur)

আরও পড়ুনঃ ‘আবার মাঠে ফেরার চেষ্টা করো’, বিরাটকে অনুরোধ তালিবান নেতার

এই পুজোকে কেন্দ্র করে রয়েছে এক বিস্তর কাহিনী। যা ইতিহাসের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। বলা হয়, দেব পরিবারের আদি বসবাস ছিল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ( Paschim Medinipur) অন্তর্গত আনন্দপুর থানার আড়রাগড় গ্রামে। বর্গী আক্রমনের সময় তৎকালীন রাজা ত্রিলোচন দেব যুদ্ধে পরাজিত হন। এরপর বিষ্ণু মন্দিরে গিয়ে দেব-দেবীদের আরাধনা শুরু করেন। সেই সময় তৎকালীন বর্ধমানের রাজা বাঁকুড়া রায় সেই পরিবারে এসে “অষ্টাদশভূজা” দুর্গা মাতার পূজা শুরু করেন। সেই সময় থেকেই মা পূজিত হয়ে আসছেন ১৮ বাহুতে, রণ সজ্জায় সজ্জিত হয়ে।

লিঙ্কঃ https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial

শারদীয়ার প্রাক্কালে প্রত্যেক বছর নতুন করে মাটি দিয়ে তৈরি করা হয় মায়ের মূর্তি। শুধু মায়ের মূর্তিই নয়, গহনা থেকে সাজসজ্জা সবকিছু মাটি দিয়েই তৈরি করা হয়। মা দুর্গা ও মহিষাসুরের প্রতিমা তৈরি হলেও লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশকে ‘ পটচিত্র ’ তে অঙ্কণ করা হয়। যা বাংলার এক অন্যতম প্রাচীন শিল্প। তাঁদের সঙ্গে থাকেন দাস দাসী, তবে তাঁদেরকে মাটি দিয়েই তৈরি করা হয়।( Paschim Medinipur)

গীতাষ্টমীর পরের দিন থেকেই কৃষ্ণ “নবমাদী কল্প” থেকেই ১৩ দিন ১৩ জন দেবীর পূজা করা হয়। ষষ্ঠীতে বেলবরন এবং সপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নানের মধ্য দিয়ে মূল পুজোর শুরু। সপ্তমী থেকে শুরু হয় হোম যজ্ঞ। যা দশমীর দিন পর্যন্ত একটানা চলে। সন্ধিক্ষণের পর বিশেষ পুজো হয়। “দেব নগরী” হরফে লেখা বিশেষ পুঁথির মন্ত্র উচ্চারণে গোপন পুজো হয় “অষ্টাদশভূজা” মায়ের। সন্ধিক্ষণে ছাগ বলী এবং নবমীতে দণ্ডী কেটে মায়ের আরাধনায় মেতে ওঠেন দেব পরিবার। বিশেষ রীতি অনুযায়ী পুজোর সময় পরিবারের কোন সদস্য বাড়ির বাইরে যেতে পারেন না।

বর্গী আক্রমণের পর অবস্থান পরিবর্তন করে চন্দ্রকোনা এবং ত্রিলোচনপুর হয়ে বর্তমানে গড়সনাপোতা গ্রামে অধিষ্ঠিত দেব পরিবার ও “অষ্টদশভূজা” দুর্গা মা। এভাবেই বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে দেব পরিবারের “অষ্টদশভূজা” র পূজার্চনা। পুজোর সময় কার্যত কয়েক লক্ষ মানুষ ভিড় জমান এই “অষ্টদশভূজা” দেবীর দর্শন করতে।