চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। সবথেকে খারাপ অবস্থা দার্জিলিং-এর। মিরিক, সুখিয়াপোখরি, ডুয়ার্স সহ নানা অংশের মানুষ প্রকৃতির রোষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টির বহর বাড়ায় উত্তরবঙ্গের তিস্তা, তোর্সা সহ প্রায় সব নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। এই আবহে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ডুয়ার্স সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় (North Bengal Floods)।
[আরও পড়ুন: ইন্দো-বাংলা কমিশন থাকলে ইন্দো-ভুটান কেন নয়? প্রশ্ন তুললেন রাজ্যসভার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়]
শিলিগুড়ির পোড়াঝাড়ে মহানন্দা নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত একটি গ্রাম। তোর্সার জল ঢুকে জলমগ্ন গোটা কোচবিহার শহর। বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে তোর্সা। কোথাও হাঁটুজল জমেছে। কোথাও আবার কোমরজল। উদ্ধারকাজে নেমেছে এনডিআরএফ টিম। পাহাড় ও ডুয়ার্সে রাতভর ভারী বৃষ্টির কারণে উত্তরবঙ্গের প্রায় সব নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফুলেফেঁপে উঠেছে হলং।
ডুয়ার্সে ভেঙে পড়েছে নদীর উপরে থাকা কাঠের সেতু। জলদাপাড়ার কিছু এলাকা ডুয়ার্সের বাকি অংশের বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজে যাওয়ার একমাত্র পথও রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।লজে আটকে পড়েছেন ১০০-এর কাছে পর্যটক। দক্ষিণ ২৪পরগনার এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। দার্জিলিঙে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রাস্তা দিলারাম হয়ে যে পথ শহরে পৌঁছয়, সেখানেও ধস নেমে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় রোহিণী রোডের একাংশ ভেঙে গেছে নদীর দিকে (North Bengal Floods)।
শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাতায়াত কার্যত অচল। যেসব পর্যটক পাহাড়ে রয়েছেন, তাঁদের আপাতত হোটেলেই থাকতে বলা হয়েছে। জিটিএ-এর পক্ষ থেকে রবিবার সকালে জরুরি নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রক গার্ডেন ও টাইগার হিলের মতো পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টিও ধসে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠকে অংশ নেবেন। রবিবার উত্তরবঙ্গের জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গে তিনি পাশা থাকার বার্তা দিয়েছেন সোশ্যালমিডিয়ায়।
আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন,উত্তরবঙ্গও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গা প্লাবিত।অতিরিক্ত বৃষ্টির মতোই ভিনরাজ্য থেকে জল ছাড়ার ফলে এই বন্যা হয়েছে। শনিবার রাত থেকে টানা ১২ ঘণ্টা প্রায় ৩০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টি হয়েছে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়। ভুটান,সিকিমে বৃষ্টির জেরে সঙ্কোশ নদীতে জলস্ফীতি দেখা দিয়েছে। যার জেরে ভাসছে পাহাড়, ডুয়ার্স।দুর্যোগের ফলে আমরা কিছু ভাইবোনকে হারিয়েছি। আমি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাই। পরিবারগুলিকে সব রকম সহায়তা করা হবে।’ দুটি লোহার সেতু ভেঙে পড়েছে, বন্যায় বহু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দার্জিলিং, মিরিক, জলপাইগুড়ি, মাটিগাড়াও আলিপুরদুয়ার উদ্বেগজনক ছবি ধরা পড়ছে। পুরো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। এটি একটি দুর্যোগ, দুর্যোগে সবার পাশে থাকা উচিত (North Bengal Floods)।
[আরও পড়ুন: ব্রাজিলিয়ান তারকার গোলে চেলসির কাছে হার লিভারপুলের]
সোমবার মুখ্যসচিবকে নিয়ে উত্তরবঙ্গে পৌঁছে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন সমস্তরকম ব্যবস্থা করেছে। নবান্ন পরিস্থিতি মনিটরিং করছে।উত্তরকন্যা থেকেও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা হচ্ছে। বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রশাসন চালু করেছে হেল্পলাইন।
নবান্ন: (০৩৩) ২২১৪৩৫২৬,২২৫৩৫১৮৫
৮৬ ৯৭৯৮১০৭০(টোল ফ্রি),১০৭০(টোল ফ্রি)
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ: ৯১৪৭৮৮৯০৭৮
শিলিগুড়ি পুরসভা: ৭৫৫৭০৩৫১৯৪
প্রশাসন যুদ্ধকালীন তত্পরতায় ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে নেমেছে।পর্যটকদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে।সোমবার উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় বাড়তি সজাগ রয়েছে প্রশাসনের কর্তারা (North Bengal Floods)।