চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের একের পর এক হেভিওয়েট তৃণমূল নেতা যখন দুর্নীতির অভিযোগে শ্রীঘরে, ঠিক তখনই এবার ভাঙড়ের পুরনো এক বোমা বিস্ফোরণের মামলায় নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ (NIA)। বৃহস্পতিবার সাতসকালে ক্যানিং পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার জীবনতলার বাড়িতে হানা দেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। বিঘ্ন এড়াতে গোটা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। তবে এনআইএ পৌঁছানোর আগেই তৃণমূল নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান বলে সূত্রের খবর। বিধায়ক বাড়িতে না থাকলেও তদন্তকারীরা হাল ছাড়েননি। পরে তাঁর ছেলে ইমরান মোল্লাকে সঙ্গে নিয়ে জীবনতলার বাড়িতে ঢোকেন এনআইএ আধিকারিকরা। সেখানেই দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। শুধু শওকত মোল্লার বাসস্থানই নয়, কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকদের একটি দল ওই তৃণমূল নেতার স্থানীয় দলীয় কার্যালয় বা পার্টি অফিসেও চিরুনি তল্লাশি চালায়।
এনআইএ-র এই মেগা অপারেশনের পরিধি ছিল বেশ বিস্তৃত। তদন্তকারীদের আরও একটি দল মৌখালি এলাকায় শওকত-পুত্র ইমরানের একটি সুবিশাল ক্যাফেতেও হানা দেয়। সেখানেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে খবর। অন্যদিকে, এনআইএ-র আরেকটি পৃথক দল সরাসরি চলে যায় ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায়, যেখানে আসল বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছিল। সেই এলাকার একাধিক বাড়ি এবং কিছু দিন আগে এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া স্থানীয় তৃণমূল নেতা আহিদুল ইসলামের বাড়িতেও একযোগে তল্লাশি শুরু করেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
তদন্তকারী সূত্রে জানা গিয়েছে, বিগত বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়া অঞ্চলের বামুনিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। সেই বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আদালতের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। সম্প্রতি এই মামলার তদন্তে গতি বাড়িয়ে তৃণমূল নেতা আহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর উঠে আসা সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবার সকালের এই বিশাল অভিযান।