নিজস্ব চিত্র
Bangla Jago Desk: পূর্ব বর্ধমান জেলার রায়না ব্লকের অন্তর্গত নেত্রখণ্ড গ্রামে মঙ্গলবার এক মানবিক ও ঐতিহাসিক উদ্যোগের সাক্ষী থাকলেন স্থানীয় মানুষজন। গ্রামের পূর্ব পাড়ায় নির্মিত হলো আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি শ্মশান চুল্লি, যার নামকরণ করা হয়েছে ‘শান্তি ধাম’। এই মহৎ কর্মটি বাস্তবায়ন করেছেন গ্রামবাসী প্রয়াত শংকর চন্দ্র মালিক ও শিবানী মালিকের ছয় পুত্র, যাঁরা নিজেদের অর্থে চুল্লিটি নির্মাণ করেন পিতা-মাতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে।
গ্রামের মানুষ বহু বছর ধরে বর্ষা বা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সময়ে শবদাহ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতেন। কাদায় আটকে থাকা রাস্তা, খোলা জায়গায় শবদাহে অসুবিধা—সব মিলিয়ে এক বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা হতো শেষযাত্রার সময়। এই বাস্তবতাকেই পরিবর্তন করার লক্ষ্যে তৈরি হয়েছে ‘শান্তি ধাম’, যা কেবল একটি চুল্লি নয়, বরং এক শান্তিপূর্ণ বিদায়ের ঠিকানা হয়ে উঠবে ভবিষ্যতের জন্য।
মঙ্গলবার এক শুভ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ‘শান্তি ধাম’-এর দ্বারোদ্ঘাটন করেন পলাশন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মনিকা কোঙার। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়নার তপবন আশ্রমের সম্পাদক হারাধন ঘোষ। উপস্থিত ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী, শিক্ষাবিদ ও সাধারণ মানুষ। গীতার মন্ত্রোচ্চারণ, উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি এবং হরিনাম সংকীর্তনের মধ্য দিয়ে ফলক উন্মোচন হয়—যা অনুষ্ঠানটিকে এক পবিত্র আঙ্গিকে পৌঁছে দেয়।
অনুষ্ঠানে মালিক পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাঁরা চান এই ‘শান্তি ধাম’-এর পাশে একটি ফুলের বাগান গড়ে উঠুক, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যেমন বাড়াবে, তেমনই মানসিক শান্তিও এনে দেবে। প্রধান মনিকা কোঙার এই প্রস্তাবকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে সকল গ্রামবাসীকে সম্মিলিতভাবে এই কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
মালিক পরিবারের এই উদ্যোগ যেমন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো, তেমনই গ্রামবাসীর কাছে নতুন আশার আলো জ্বালালো—যেখানে মৃত্যুও হবে সম্মানজনক ও শান্তিপূর্ণ। গ্রামবাসীরা মালিক পরিবারের এই অবদানে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জানিয়েছেন—এই মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে থাকবে।