চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: নেপালের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীর পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু প্রশাসনিক পদক্ষেপেই নয়, মানবিক বার্তা দিতে এবার কলম ধরলেন তিনি। বুধবার উত্তরবঙ্গ সফরের সময় মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে আনেন একটি কবিতা, যেখানে মানবিকতার বার্তা ছড়িয়ে দেন তিনি। জলপাইগুড়ির উত্তরকন্যা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিবেশী রাষ্ট্র যেন শান্তিতে থাকে। বাংলা তো মানবিকতার জন্মদাতা। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে দিয়ে মিথ্যার জয়ঘোষণা মানবিকতা হতে পারে না।’’তিনি আরও বলেন, কারও প্রতি কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে, কিন্তু তা থেকে হিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি মানা যায় না। “নিজের স্বার্থে দেশভাগ, রাজ্যভাগ বা জেলাভাগ করার চক্রান্ত বহুবার হয়েছে। কিছু সুযোগসন্ধানী লোক সেই অস্থিরতায় ফায়দা তোলার চেষ্টা করবে। কিন্তু তাদের ছক যেন মানুষের জীবন না জ্বালিয়ে দেয় (Nepal Crisis)।”
আরও পড়ুনঃ রবীন্দ্রনাথ-বিবেকানন্দের প্রথম সাক্ষাৎ চায়ের আড্ডায়! কার আয়োজনে বসেছিল চা-চক্র?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন রাজনৈতিক নেতা হয়েও দীর্ঘদিন ধরেই কবিতা, গান ও চিত্রকলার মাধ্যমে তাঁর ভাবনা তুলে ধরেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নেপালের ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে নিজের লেখনীকে অস্ত্র করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। “আমি সবসময় চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে,”—বলেন মমতা। “আমার দলের কেউ হলেও, অন্যায় করলে আমি ব্যবস্থা নিই। অতীতেও নিয়েছি।” তিনি আরও বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় তিনি তার পরিচয়, রাজনৈতিক ভঙ্গিমা বা মতাদর্শ দেখেন না—সরাসরি মানবিকতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেন। নেপালের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের সীমানা ঘেঁষে থাকা অঞ্চলগুলি ঘিরে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি যাতে অস্থির না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, “কেউ কেউ এমন পরিস্থিতিতে ‘মাছ ধরতে জলে নামবে’। তাই এখন সবাইকে সাবধান থাকতে হবে (Nepal Crisis)।”
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/Banglajagotvofficial
জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী জলপাইগুড়িতে রাত কাটাবেন। মুখ্যসচিব ফিরবেন কলকাতায় জরুরি কাজের জন্য। পরিস্থিতি শান্ত হলে মমতা বৃহস্পতিবার কলকাতা ফিরবেন, নচেৎ উত্তরবঙ্গ সফর দীর্ঘায়িত হতে পারে। নেপালের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওখানে এখন বামপন্থী সরকার রয়েছে। আমাদের দলের সঙ্গে বামেদের কোনও সম্পর্ক নেই।” রাজনৈতিক স্বার্থে অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চললেও, রাজ্য সরকার মানবিকতা ও শান্তির পক্ষে বলেই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, এই ধরনের ঘটনায় কোনও পক্ষ নেওয়া নয়, বরং মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ানোই এখন জরুরি (Nepal Crisis)।