চিত্রঃ সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: লালমাটির দেশ বীরভূম। শৈব, শাক্ত ও বৈষ্ণব সাধনার পুণ্যভূমি বীরভূমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ধর্মীয় স্থান। বীরভূমের মাটি পবিত্র হয়ে উঠেছে ৫-৫টি সতীপীঠের অবস্থানে। বীরভূম জেলার বাণিজ্য কেন্দ্র হল সাঁইথিয়ায়। সাঁইথিয়ার প্রাচীন নাম হল নন্দীপুর। নন্দীপুরের আরাধ্য দেবী হলেন নন্দীকেশ্বরী। একান্নপীঠের অন্যতম হল সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী। হিন্দু ধর্মের পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হল সতীপীঠ। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, সত্যযুগে অনিচ্ছাসত্ত্বেও মেয়ে সতীর সঙ্গে চালচুলোহীন মহাদেবের বিয়ে দিতে বাধ্য হন রাজা দক্ষ। মহাদেবের ওপর প্রতিশোধ নিতে রাজা দক্ষ এক মহাযজ্ঞর আয়োজন করেন। তাতে মেয়ে ও জামাইকে ছাড়া সকল দেবদেবীকে আমন্ত্রণ জানান। শিবের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেই অনুষ্ঠানে যান সতী (Nandikeshwari Temple)।
আরও পড়ুনঃ পুষ্কর মেলায় চমক! নজর কাড়ছে কোটি টাকার ঘোড়া ও মহিষ
বাবা দক্ষরাজের মুখে স্বামীর নিন্দা সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যা করেন সতী। রাগে দেবাদিদেব মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে তুলে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন যজ্ঞস্থলে। মহাপ্রলয়ের হাত থেকে বিশ্বকে বাঁচাতে শ্রীবিষ্ণু সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ খণ্ড খণ্ড করে দেবাদিদেব মহাদেবকে শান্ত করেন। সতীর দেহখণ্ড যেখানে যেখানে পড়ে সেখানেই আজ রয়েছে বিভিন্ন সতীপীঠ। এমনই এক সতীপীঠ হল সাঁইথিয়ার নন্দীকেশ্বরী। বলা হয়ে থাকে, নন্দীপুর তথা আজকের সাঁইথিয়ায় সতীর কণ্ঠহার পড়েছিল। বিশাল বটবৃক্ষ ঘিরে আছে মন্দির চত্বরকে। মন্দিরের নাটমন্দিরে দশমহাবিদ্যার বিভিন্ন ছবি আঁকা রয়েছে। দেবী মায়ের নাম নন্দিনী। ভৈরব এখানে নন্দীকেশ্বর। নাটমন্দিরে ঢোকার মুখে রয়েছে জগন্নাথ, সুভদ্রা ও বলরামের কাঠের তৈরি বিগ্রহ (Nandikeshwari Temple)।
Bangla Jago fb page: https://www.facebook.com/share/17CxRSHVAJ/
রথযাত্রা উৎসব বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। এছাড়াও বিষ্ণু, হনুমান, রাম-সীতার, নবদুর্গা আর শিবমন্দির রয়েছে। বৈশাখী পূর্ণিমা, কালীপুজো ও অমাবস্যার সময় বিশেষ পুজো হয়। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মন্দির খোলা থাকে। মাকে নিবেদন করা হয় অন্নভোগ। কলকাতা থেকে ২২০ কিলোমিটার দূরে, বর্ধমান শহর থেকে ৯২ কিলোমিটার দূরে সাঁইথিয়া রেল স্টেশন থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই মন্দির (Nandikeshwari Temple)।