চিত্র- AI
আত্মজিৎ চক্রবর্তী: সামান্য টিভি দেখা নিয়ে বচসা, আর তার জেরেই যুবককে খুনের অভিযোগ! নদিয়ার গোপালনগর থানার বৃদ্ধপাল্লা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায়। পরিবারের অভিযোগ, স্থানীয় দুই যুবক তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। পরদিন সকালে এলাকার একটি মাঠ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর দেহ। মৃত যুবকের নাম বিশ্বজিৎ মুণ্ডা। তিনি গোপালনগর থানার বৃদ্ধপাল্লা এলাকার বাসিন্দা। পেশায় রাজমিস্ত্রি বিশ্বজিৎ দীর্ঘদিন ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। কয়েক মাস আগে তিনি বাড়ি ফেরেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী বাপের বাড়িতে যাওয়ায় দিনের বেশিরভাগ সময় স্থানীয় একটি ক্লাবেই কাটাতেন বলে জানা গিয়েছে।
পরিবার সূত্রে দাবি, তিন দিন আগে ওই ক্লাবে টিভি দেখা নিয়ে নিতাই ও টোটোন নামে এলাকার দুই যুবকের সঙ্গে বিশ্বজিতের বচসা বাধে। অভিযোগ, সেই সময় তাঁকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে বসে খাওয়ার সময় টোটোন ও নিতাই বিশ্বজিৎকে বাইরে ডেকে নিয়ে যায় বলে পরিবারের অভিযোগ। এরপর রাত গভীর হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যেরা রাতভর বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন, কিন্তু তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। শুক্রবার সকালে বৃদ্ধপাল্লা এলাকার একটি মাঠে রক্তাক্ত অবস্থায় বিশ্বজিতের দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গোপালনগর থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে টোটোনকে আটক করা হয়েছে। নিতাইয়ের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে। টিভি দেখা নিয়ে পুরনো বচসাই খুনের কারণ কি না, নাকি ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও বিবাদ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং ধৃতের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য মিলবে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।