নিজস্ব চিত্র
মাধব দেবনাথ, নদিয়া: ডিজিটাল অ্যারেস্টের ভয়াল ফাঁদে ফেলে নদিয়ার কল্যাণীর এক নামী চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রায় ২৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় দীর্ঘ তদন্তের পর সাফল্য পেল রানাঘাট পুলিশ জেলার সাইবার ক্রাইম শাখা। ঘটনার প্রায় দু’বছর পর মধ্যপ্রদেশের ভোপাল থেকে দুই নাইজেরিয়ান নাগরিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম জুনাইদা টুকুর সানি এবং আলিয়ু সানি গার্বা। পুলিশ সূত্রের খবর, তারা দু’জনেই ভোপালের একটি স্থানীয় কলেজে পড়াশোনা করত এবং পড়াশোনার আড়ালেই চালাত এই আন্তর্জাতিক সাইবার প্রতারণার কারবার।
পুলিশের দায়ের করা রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর ওই চিকিৎসকের মোবাইলে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে টেলিফোন বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিক পরিচয়ে দাবি করেন যে, চিকিৎসকের নামে থাকা একটি ভুয়ো সিম কার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক বেআইনি ও অপরাধমূলক কাজ সংগঠিত হয়েছে। এরপর সিবিআই বা অন্যান্য কেন্দ্রীয় সংস্থার ভয় দেখিয়ে তদন্তের অজুহাতে ওই চিকিৎসককে কার্যত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে ফেলা হয়।
ভয় ও মানসিক চাপের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্তরা চিকিৎসকের কাছ থেকে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে থাকে। ৭ নভেম্বর থেকে ১৬ নভেম্বর ২০২৪-এর মধ্যে বিভিন্ন ধাপে চিকিৎসকের অ্যাকাউন্ট থেকে মোট ২৪ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিজের ভুল ও প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ২৪ নভেম্বর ২০২৪ সালে কল্যাণী সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রতারিত ওই চিকিৎসক।
অভিযোগ পেতেই মাঠে নামে রানাঘাট জেলা সাইবার থানার বিশেষ টিম। ব্যবহৃত ফোন নম্বর এবং মানি ট্রানজ্যাকশন ট্রেল বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা পৌঁছান মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। সেখান থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয় ওই দুই নাইজেরিয়ান যুবককে। এরপর ট্রানজিট রিমান্ডে তাঁদের কল্যাণীতে নিয়ে আসা হয়। আজ ধৃতদের কল্যাণী মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক ৫ দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনো বড় আন্তর্জাতিক সাইবার গ্যাং সক্রিয় রয়েছে; ধৃতদের জেরা করে সেই চক্রের বাকি সদস্যদের হদিস মিলবে বলে আশা তদন্তকারীদের।