চিত্রঃ নিজস্ব
AK Bangla Desk: টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত মুর্শিদাবাদের উত্তর প্রান্ত। একদিকে ফরাক্কায় রেললাইনে ধস, অন্যদিকে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলা এলাকায় ঝাড়খণ্ডগামী সড়কপথের চাঁদপুর পল্টন ব্রিজের কাছেও ধস নামার খবর। জোড়া বিপর্যয়ে রেল ও সড়ক—দুই গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থাই কার্যত ধাক্কা খেয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও সাধারণ মানুষ। রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোর ৩টে ১০ মিনিট নাগাদ ফরাক্কা ব্যারেজের প্রবেশমুখের কাছে আপ লাইনে ধস নামে। নিউ ফরাক্কা স্টেশন পেরিয়ে ব্যারেজে ওঠার ঠিক আগে রেললাইনের নীচ থেকে মাটি সরে যায়। টানা বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়ে প্রায় ২০ ফুট অংশ বসে গিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে।
রাতে রুটিন পেট্রোলিংয়ের সময় রেলের গ্যাংম্যানদের নজরে আসে যে, ধসের জেরে রেললাইন বেঁকে গিয়েছে। বিপদ আঁচ করেই তাঁরা দ্রুত লাল পতাকা দেখিয়ে ট্রেন থামান এবং মালদহ কন্ট্রোলকে খবর দেন। তাঁদের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও সঙ্গে সঙ্গেই আপ লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গগামী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন আটকে পড়ে। ১৩১৫৩ আপ শিয়ালদহ-রাধিকাপুর গৌড় এক্সপ্রেস, ১২৩৪৩ আপ শিয়ালদহ-নিউ জলপাইগুড়ি দার্জিলিং মেল এবং ১৩১৪৫ আপ যোগবানি এক্সপ্রেস দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে নিউ ফরাক্কা, তিলডাঙা ও মালদহ টাউন স্টেশন সংলগ্ন এলাকায়। দীর্ঘক্ষণ ট্রেন আটকে থাকায় যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়তে থাকে। একাধিক স্টেশনে জল ও খাবারের সমস্যাও দেখা দেয় বলে অভিযোগ। অনেক যাত্রী দীর্ঘ সময় ধরে গন্তব্যে পৌঁছতে না পেরে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভোর থেকেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ শুরু করে রেল। ৬০ জনেরও বেশি ইঞ্জিনিয়ার ও ট্র্যাকম্যান ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোল্ডার, পাথর ও বালি ফেলে ধসে যাওয়া অংশ শক্ত করার কাজ শুরু করেন। আপাতত ডাউন লাইনকে সিঙ্গল লাইন হিসেবে ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রিত গতিতে ট্রেন চলাচল করানো হচ্ছে। ঘণ্টায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন পার করা হচ্ছে বলে রেল সূত্রে খবর। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, দ্রুত মেরামতির কাজ শেষ করে বৃহস্পতিবার বিকেলের মধ্যেই আপ লাইন স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। এদিকে একই সময়ে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলা এলাকায় ঝাড়খণ্ডগামী সড়কপথে চাঁদপুর পল্টন ব্রিজের কাছেও ধস নামায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। ফলে একদিকে রেল, অন্যদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় কার্যত বিচ্ছিন্নতার মুখে মুর্শিদাবাদের উত্তরাংশ। লাগাতার বৃষ্টি আর নরম মাটিই এই জোড়া ধসের নেপথ্যে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।