ad
ad

Breaking News

বাগডোগরা এয়ারপোর্টে গ্রেফতার মোফাক্কেরুল, বেঙ্গালুরু পালানোর ছক বানচাল মিম নেতার

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে গা ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

Malda Crisis: Main Accused Mofakkerul Islam Arrested at Bagdogra Airport

গ্রেফতার মালদহ কাণ্ডের মূলচক্রী। চিত্র- সংগৃহীত

Bangla Jago Desk: মালদহের কালিয়াচকে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে সৃষ্ট দাঙ্গাসদৃশ পরিস্থিতি এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করল পুলিশ। শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে পালানোর সময় শিলিগুড়ি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন পেশায় আইনজীবী তথা মিম নেতা মোফাক্কেরুল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি বেঙ্গালুরুতে গা ঢাকা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মালদহে নিয়ে আসা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের কড়া মনোভাব এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে বৃহস্পতিবার থেকেই মোফাক্কেরুলের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছিল। গ্রেফতার হওয়ার ঠিক আগে সামাজিক মাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট করেন তিনি। পরে ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদ করার অপরাধে তাঁকে ধরা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গের এডিজি কে জয়রামন জানিয়েছেন, কালিয়াচক থানায় মোফাক্কেরুলের বিরুদ্ধে তিনটি পৃথক মামলা রুজু হয়েছে। এই ঘটনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে এখনও পর্যন্ত মোট ১৯টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেফতার করা হয়েছে ৩৫ জনকে।

এদিকে মালদহ কাণ্ডের গুরুত্ব বুঝে ঘটনার তদন্তে নেমেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ। শুক্রবার সকালেই কলকাতায় পৌঁছেছেন এনআইএ-র আইজি সনিয়া সিংহ। সেখান থেকে তাঁর মালদহে যাওয়ার কথা রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার পরই এনআইএ-র হাতে তদন্তভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে সাতজন বিচারককে দীর্ঘ সময় ব্লক অফিসের ভেতর আটকে রাখা এবং তাঁদের উদ্ধারের সময় পুলিশের গাড়িতে হামলার ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতার হওয়া মোফাক্কেরুল ইসলাম আদতে উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা। এক সময় রায়গঞ্জ জেলা আদালত ও কলকাতা হাইকোর্টে ওকালতি করতেন তিনি। রাজনৈতিকভাবে তিনি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম-এর সঙ্গে যুক্ত এবং গত বিধানসভা নির্বাচনে ইটাহার কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও হয়েছিলেন। যদিও সেই নির্বাচনে তিনি মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিলেন। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে যে, বুধবার কালিয়াচক এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ এবং উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরির নেপথ্যে তাঁর সক্রিয় প্ররোচনা ছিল।

উল্লেখ্য, বুধবার ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত বিচারকদের প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখেছিল উত্তেজিত জনতা। রাত ১২টা নাগাদ পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এই উদ্ধারকাজ চলাকালীন পুলিশের লাঠিচার্জ এবং আন্দোলনকারীদের পাল্টা হামলার অভিযোগে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে রাজ্য সরকারকে ভর্ৎসনা করার পর থেকেই পরিস্থিতির মোড় ঘোরে। বর্তমানে এনআইএ-র প্রাথমিক রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে আদালত ও কমিশন।