নিজস্ব চিত্র
Bangla Jago Desk: শান্তনু পান, পশ্চিম মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের বিক্রমপুর হাইস্কুলে মিড-ডে মিল ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ ঘনীভূত হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে শোকজ করেছেন ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী।
মিড-ডে মিল, যা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প — এর মূল উদ্দেশ্য বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা। কিন্তু দিনের পর দিন এই প্রকল্পে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এবার সেই একই অভিযোগ উঠল বিক্রমপুর হাইস্কুলে, যেখানে অভিযোগকারীরা বলছেন, স্কুলের মিড-ডে মিলের প্রায় ৩০ বস্তা চাল লাইব্রেরির ঘরে মজুত করে রাখা হয়েছিল এবং পরে সেই চাল বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
স্কুলের একাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা বিষয়টি নিয়ে যথাযথ তদন্ত ও পদক্ষেপ চেয়ে ব্লক প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানান। তাঁদের বক্তব্য, বহুদিন ধরেই এই অনিয়ম চলছিল, কিন্তু কোনওভাবেই তা বন্ধ হচ্ছিল না। প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপের দাবি ক্রমশ জোরদার হতে থাকে।
অবশেষে ২৮ এপ্রিল, গ্রীষ্মকালীন ছুটির ঠিক আগের দিন, ডেবরা ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্তকারী দল হঠাৎ করে বিক্রমপুর হাইস্কুলে উপস্থিত হয়। তদন্তকারীরা পুরো স্কুল চত্বর ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে বেশ কিছু অসংগতি ও অনিয়ম। বিশেষ করে, হিসেব বহির্ভূতভাবে মজুত করা চাল প্রশাসনের নজরে আসে। এই তদন্তের ভিত্তিতেই ডেবরার বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী ১৩ মে মঙ্গলবার স্কুলের প্রধান শিক্ষককে শোকজ নোটিস পাঠান এবং তিন দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ী বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা একটি টিম পাঠিয়েছিলাম। তদন্তে দেখা যায়, কিছু চালের বস্তা হিসেবের বাইরে রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই প্রধান শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ও এলাকাজুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের খাবার নিয়ে কোনওরকম আপস করা উচিত নয়, সেখানে এই ধরনের দুর্নীতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পুষ্টি ও শিক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই বড়সড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।