চিত্রঃ নিজস্ব গ্রাফিক্স
Bangla Jago Desk: গত বুধবার এসআইআর মামলায় সওয়ালে সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর বলেছিলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে প্রায় ৮,৩০০ মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে, যাঁরা স্থানীয় ইআরও বা বিএলও-দের ক্ষমতা খর্ব করে নিজেদের ইচ্ছেমতো নাম কাটছেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী পাল্টা দাবি করেন, রাজ্য সরকার পর্যাপ্ত দ্বিতীয় শ্রেণির অফিসার না দেওয়ায় তাঁরা মাইক্রো-অবজারভার নিয়োগ করতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এই অভিযোগ খণ্ডন করে জানান, রাজ্য সাধ্যমতো কর্মী দিয়েছে ফলে কমিশনের দাবি সঠিক নয়। মুখ্যমন্ত্রীর এই সওয়ালের পর প্রধান বিচারপতি নির্দেশ দেন, প্রতিটি নথিতে অনুমোদিত বিএলও-র স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক। এছাড়া রাজ্য যদি পর্যাপ্ত অফিসার সরবরাহ করতে পারে তা হলে মাইক্রো-অবজারভারদের আর প্রয়োজন হবে না বলেও ইঙ্গিত দেয় শীর্ষ আদালত।
নাম বাদ দিতে ‘বাহানা’, বিস্ফোরক ইআরও pic.twitter.com/fgq3RjxspR
— BanglaJago Tv (@BanglaJagotv) February 7, 2026
মাইক্রো-অবজারভারদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠছে তার প্রমাণ এবার সামনে এল। এবার এক মাইক্রো-অবজারভারের বিরুদ্ধে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে নালিশ জানালেন গোসাবার ইআরও জয়দীপ লাহিড়ি। অভিযোগে বলা হয়েছে, ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের যে নিয়ম রয়েছে এসআইআর-এর জন্য তা মানা হচ্ছে না। শুনানিতে অসহযোগিতা করা ও ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিকে চিঠি লিখে এই অভিযোগ এনে তার প্রতিকার চেয়েছেন গোসাবার ইআরও।
অভিযোগপত্রে গোসাবার ইআরও জয়দীপ লাহিড়ি লিখেছেন, ‘মাইক্রো-অবজারভারের জন্য নির্ধারিত ভোটকেন্দ্র নং ১৩২ থেকে ১৫০ পর্যন্ত পর্যবেক্ষণকালে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। উক্ত মাইক্রো-অবজারভার হলেন অর্ণব দত্ত, ডেপুটি ম্যানেজার, ইউনাইটেড ইন্ডিয়া ইন্স্যুরেন্স কোং লি, রিজিওনাল অফিস।’ ইআরও-র অভিযোগ, ‘মাইক্রো-অবজারভার এমন নথিপত্র পর্যালোচনা করেছেন যা পরস্পরবিরোধী। যেমন— একই ছবি থাকা সত্ত্বেও ভিন্ন ছবি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, ইসিআই নির্দেশিকা অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য নয় এমন নথিপত্র অন্য ক্যাটাগরিতে চাওয়া হয়েছে, আনম্যাপড মামলার ক্ষেত্রে ২০০২ সালের ম্যাপিং দাবি করা হয়েছে, যদিও নির্বাচক ইসিআই নির্দেশিকা অনুযায়ী বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত বৈধ নথি জমা দিয়েছেন।’
ইআরও-র দাবি, বারংবার অনুরোধ সত্ত্বেও মাইক্রো-অবজারভার যথাযথভাবে তথ্য যাচাই করেননি এবং যুক্তিসঙ্গত আপত্তি ও ব্যাখ্যা গ্রাহ্য করেননি। এই অসহযোগিতার ফলস্বরূপ এসআইআর-এ ভুল সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ হয়েছে, যা নির্বাচনী তালিকার যথার্থতা ও প্রকৃত ভোটারদের অধিকারকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
এ ধরনের কার্যকলাপ এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী, কারণ এসআইআর-এর লক্ষ্য হল নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যথার্থতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায়সঙ্গততা নিশ্চিত করা। মাইক্রো-অবজারভারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর অসহযোগিতা বা খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত গ্রহণ এই ব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করছে।’
অভিযোগপত্রের সঙ্গে এমন কয়েকটি ভোটারের নাম উল্লেখ করেছেন ওই ইআরও, যেখানে দেখা যাচ্ছে শুনানিতে ডাক পাওয়া ভোটারদের সম্পর্কে এইআরও যে মন্তব্য করেছেন তার ভিন্ন মত পোষণ করতে দেখা যাচ্ছে মাইক্রো অবজারভারকে। যেমন সামরেশ গায়েন নামে এক ভোটারের সম্পর্কে এইআরও মন্তব্য করেছেন, এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। কিন্তু, মাইক্রো অবজারভার মন্তব্য করেন, স্ব-নথি নেই। পুনরায় যাচাই করুন। প্রমীলা জোতদার নামে এক ভোটার সম্পর্কে এইআরও বলেছেন যোগ্য (ম্যাপড)– অন্যান্য শ্রেণি, কিন্তু মাইক্রো অবজারভার বলেছেন, ই-রোল ও ইএফ ফর্মে ছবির অমিল। পুনরায় যাচাই করুন। দিশা মণ্ডল নামে এক ভোটারের ক্ষেত্রে এইআরও বলেছেন, যোগ্য (ম্যাপড) – অন্যান্য শ্রেণি, মাইক্রো অবজারভার বলেছেন, ভোটারের জন্মতারিখ ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পর হওয়ায় মায়ের নথিপত্র আপলোড করুন।
গোসাবার এআরও-র এই অভিযোগ সামনে আসার পর দেখা যাচ্ছে, এমন চলতে থাকলে সামান্য কারণে নাম বাদ যেতে পারে ভোটারদের। ফলে এই নিয়ে মাইক্রো অবজারভারের সঙ্গে সংঘাত বেধেছে এআরও-র। মাইক্রো অবজারভারদের এই ভূমিকার কথা সুপ্রিম কোর্টে তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।