চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মেদিনীপুরের মাটি কোনোকালেই গদ্দার বা মীরজাফরদের সমর্থন করেনি এবং এখানকার মানুষ কখনো মাথা নত করতে শেখেনি। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে নাম না করে এভাবেই শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অধিকারী পরিবারের গড় হিসেবে পরিচিত এই জেলায় দাঁড়িয়েই তিনি একের পর এক তোপ দাগেন। পাশাপাশি ঝাড়গ্রামের সভা থেকে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং কুড়মি আন্দোলন নিয়েও বিজেপিকে বিঁধতে ছাড়েননি তিনি।
ভগবানপুর এবং পটাশপুর বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় অভিষেক মনে করিয়ে দেন মেদিনীপুরের গৌরবময় ইতিহাস। সতীশ সামন্ত, সুশীল ধারা থেকে শুরু করে ক্ষুদিরাম বসু ও মাতঙ্গিনী হাজরার আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, এই মাটি ১৯৪২ সালে তাম্রলিপ্ত জাতীয় সরকার গঠন করে দেশকে পথ দেখিয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই জেলায় তৃণমূলের ফলাফল এবং ভগবানপুরে বিজেপির জয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, এদিনের ভিড় প্রমাণ করছে মেদিনীপুরের মানুষ আর বিশ্বাসঘাতকদের পাশে নেই।
উন্নয়ন ও দায়বদ্ধতা নিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, তৃণমূল সরকার তাদের কাজের খতিয়ান দিতে সর্বদা প্রস্তুত। ভগবানপুরের বিজেপি বিধায়ক কিংবা কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারীকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাঁরা কি তাঁদের কাজের রিপোর্ট কার্ড পেশ করতে পারবেন? ভগবানপুর বা কাঁথি কি আগামী দিনে দিল্লি থেকে পরিচালিত হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর মতে, দিল্লির বশ্যতা স্বীকার করা বাংলার বিপ্লবীদের আদর্শ নয়।
ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরের সভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি নিয়ে সরব হন। তাঁর দাবি, এই বিধি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের ধর্ম পালনের অধিকার কেড়ে নিয়ে চাপিয়ে দেওয়া সংস্কৃতি আমদানির চেষ্টা করছে বিজেপি। কুড়মালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়ে বিজেপির প্রতিশ্রুতিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দু’মাস আগেই এই ভাষাকে অষ্টম তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কেন্দ্রকে চিঠি দিয়েছে, কিন্তু মোদী সরকার তাতে কোনো সাড়া দেয়নি।
কুড়মি ভোটব্যাঙ্ক এবং স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও মুখ খোলেন অভিষেক। গোপীবল্লভপুর কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী রাজেশ মাহাতো এবং পুরুলিয়ায় অজিত মাহাতোর ছেলের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তৃণমূল দীর্ঘকাল ধরেই বলছিল যে এই নেতারা কুড়মি সমাজের আবেগ নিয়ে খেলছেন। আজ তাঁরা বিজেপির সঙ্গে চুক্তি করে নিজেদের ব্যক্তিগত আখের গোছাতে ব্যস্ত। কুড়মি সমাজের উন্নয়নের বদলে তাঁরা দিল্লির সঙ্গে আপস করেছেন বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। মেদিনীপুর থেকে জঙ্গলমহল পর্যন্ত তাঁর বক্তব্যে এদিন ঘুরেফিরে এসেছে স্থানীয় আত্মসম্মান ও দিল্লির বঞ্চনার প্রসঙ্গ।