চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপে চড়ছে পারদ। পাহাড় থেকে সাগর সর্বত্রই নির্বাচনী প্রচারে ঝড় উঠেছে। সাধারণ মানুষের সমর্থন পেতে মরিয়া সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর জেলায় জেলায় জনসংযোগে সব দলের প্রার্থীরা। পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়েছেন সন্ধ্যারানি টুডু। রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তিনি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও ওই একই কেন্দ্র থেকে ভোট ময়দানে হাজির। এবারের নির্বাচন নিয়ে কী ভাবছেন? এলাকায় কী কী উন্নয়ন করেছেন, ফের নির্বাচিত হলে আগামী পাঁচ বছরে কোন কাজ গুলিকে অগ্রাধিকার দেবেন? খোলামেলা আলোচনায় ‘আরো খবর’-এর সম্পাদক রাজাময় মুখোপাধ্যায়-কে নিজের বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও আগামী দিনের ভাবনার কথা তুলে ধরলেন তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যারানি টুডু।

নির্বাচনী প্রচার এখন মধ্য গগনে। চৈত্রের তাপদাহকে টেক্কা দিচ্ছে ভোটের উত্তাপ। জঙ্গলমহল-জেলা পুরুলিয়ায় সর্বত্রই চর্চায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। এই জেলার অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র মানবাজার। এবার চতুর্থবার তিনি ফের ভোটের ময়দানে। এবারও জয়ের ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী তিনি। সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে পরপর তিনবার বিধায়ক। দু’বার রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দফতরের মন্ত্রীও হয়েছেন তিনি।

কেন জিতবেন আপনি, মানুষ আবার কেন আপনাকে ভোট দেবে?
২০১১ সাল থেকে যখন থেকে মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার দায়িত্ব নিয়েছেন তখন থেকেই আমি আমার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য অনেক কাজ করেছি। খুব ভালো কাজ করেছি আমরা। আমি পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দফতর পাওয়ার পর আমার আওতায় যেসব জেলা আছে, সেই সাতটা জেলায় আমরা ব্যাপক উন্নয়নের কাজ করেছি। আজকে মানবাজার বিধানসভায় অনেক কিছু ছিল না। ২০১১ সালের পর উন্নয়নের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। ১৫ বছরে আমূল বদলে গিয়েছে এই জেলা। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আলাদা মহকুমা ঘোষণা করেছেন। মহকুমা হওয়ার পাশাপাশি এখানে পরিকাঠামগত উন্নয়নে জোর দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সেই উন্নয়নের হাত ধরে মানবাজারে ফায়ার ব্রিগেড গড়ে উঠেছে। এখানে হাই রোড তৈরি হয়েছে। জেলার অন্যান্য অঞ্চল ও রাজ্যের সব জেলার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপ্লব এসেছে। এছাড়াও মানবাজারে একাধিক রাস্তা তৈরি হয়েছে। এক কথায় বলা যায় মানবাজারের সার্বিক উন্নয়নে রাজ্য সরকার কাজ করেছে। মানুষ আমাদের উন্নয়নের নিরিখে ভোট দেবেন।

সাধারণ মানুষ আপনাকেই ভোট দেবে এই আত্মবিশ্বাস কোথা থেকে পাচ্ছেন?
আমার বিশ্বাস এখানকার সাধারণ মানুষ আবার আমাকেই নির্বাচিত করবেন। কারণ সারা বছর প্রত্যেকটা মুহূর্তে আমি সাধারণ মানুষের পাশে থাকি। সুবিধা অসুবিধা সুখে-দুখে আমাকে সাধারন মানুষ সব সময় পাশে পায়।
বিজেপি বলছে এবার রাজ্যে পরিবর্তন আসবে, মানবাজারেও জিতবে?
এখানে বিজেপি বলে কিছু নেই। বিজেপির কোন সংগঠন নেই, বিজেপিও নেই। দু-চারজন বিজেপির আছে, যারা বড় বড় কথা বলে আর বেশি মিথ্যা কথা বলে। তারা কোন মানুষের পাশে নেই। সাধারণ মানুষ তাদের কোন সময় প্রয়োজনে পাশে পান না। আমাদের দিদি সারা রাজ্যের মানুষের পাশে সব সময় থাকেন। এই এলাকার মানুষের পাশে সব সময় আমি থাকি। সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনের সহযোগিতা করে আসছি সবসময়। সাধারণ মানুষ আমাদের উপর আবারও তাই আস্থা রাখবে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে আমরা ভাল রেজাল্ট দেব। দিদিকে বলেছি এই মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে লিড দেব আমরা।

প্রচারে কোন বিষয়গুলোকে তুলে ধরছেন?
দিদি সারা রাজ্যে ১০০ টার বেশি জনমুখী প্রকল্প করেছেন। সেই প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন সারা রাজ্যের মানুষ। এই মানবাজার বিধানসভা এলাকার প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে পৌঁছেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই সব জনমুখী প্রকল্পের সুবিধা। দুয়ারে রেশন থেকে লক্ষ্মীর ভান্ডার, স্বাস্থ্য সাথী, যুব সাথী, কন্যাশ্রী, সবুজসাথীর সুবিধা পাচ্ছেন প্রত্যেকটি পরিবার। এসব তথ্য তুলে ধরছি ভোটারদের সামনে। এই বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে।
এলাকার জন্য কোন কাজগুলি করে বেশি খুশি হয়েছেন?
মানবাজারের পরিকাঠামোগত আমূল পরিবর্তন করতে পেরেছি। মানবাজারকে মহকুমায় রূপান্তরিত করতে পেরেছি। বিধায়ক এলাকা উন্নয়ন তহবিলের প্রায় ৯৯ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
বিধানসভা এলাকার ভোটারদের কাছে আপনি কী বার্তা দেবেন?
যেভাবে রাজ্য সরকারের একাধিক প্রকল্পের পরিষেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে সে কথা ভোটারদেরকে স্মরণ করাবো। সাধারণ মানুষকে বলব আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলায় ‘মা মাটি মানুষ’-এর সরকার গড়ে উঠলে আরও বেশি সুবিধা পৌঁছাবে ঘরে ঘরে। সাধারণ মানুষকে বলবো বিরোধীদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে যেন বিশ্বাস না করেন। এলাকার যা উন্নয়ন হয়েছে তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরেই হয়েছে।

এসআইআর এই বিধানসভায় কতটা প্রভাব ফেলবে?
এসআইআর-এর ফলে এই বিধানসভা এলাকায় অনেক ভোটারের নাম কাটা গিয়েছে। যে নামগুলো এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে সেই সব নাম দ্রুত তালিকায় উঠুক সেই আবেদন করব। বিজেপি এবার বুঝতে পারবে সাধারণ মানুষের নাম কেটে দেওয়ার কী পরিণতি হয়।
প্রতিপক্ষ বিজেপি সম্পর্কে কী বলবেন?
সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে কেটে দিয়েছে বিজেপি। যারা ভোটারদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে তাদের যেন সাধারণ মানুষ কেউ ভোট না দেন। বিজেপি কোন উন্নয়ন করেনি, শুধু মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে। একশ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দিয়েছে বিজেপি। ওরা জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে বিজেপি। সরকারি পরিষেবা থেকে মানুষকে বঞ্চনা করেছে ওরা। বিজেপি মানুষকে কিছু দিচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই ওদের সাধারন মানুষ ভোট দেবেন না।

জয়ের ব্যাপারে কতটা আশাবাদী?
মানবাজারের সাধারণ মানুষের উপর আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এই কেন্দ্র থেকে আবারও আমিই জিতবো। জয়ের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, ১০০ শতাংশ আমিই জিতবো।