চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন মিটে যাওয়ার পরও শাসক দল তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন থামার লক্ষণ নেই। একের পর এক বিধায়ক ও নেতার বিদ্রোহী শিবিরে চলে যাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট চাপে দল। তবে এই ছন্নছাড়া অবস্থাতেও পিছু হঠতে রাজি নন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজনে আবার শূন্য থেকে লড়াই শুরু করবেন। বুধবার একদা তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সঙ্গী মদন মিত্র বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পরেই সমাজমাধ্যমে গর্জে উঠলেন তৃণমূলনেত্রী। দলত্যাগীদের ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়ে ভোটারদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।
এ দিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আপনারা দলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছিলেন। বেইমানদের দলের টিকিট দেওয়ার জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” এর পরেই নিজের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাস মনে করিয়ে দিয়ে তিনি যোগ করেন, “১৯৯৭ সালে যখন দল গড়েছিলাম, তখন আমি পুরোপুরি একা ছিলাম। সেই শূন্য অবস্থা থেকে লড়াই করে আজ দলে ২৮ জন সাংসদ ও একাধিক বিধায়ক রয়েছেন। ১৯৯৭-৯৮ সালে যদি একা লড়াই করতে পারি, তবে ২০২৬ সালেও নতুন করে শুরু করার ক্ষমতা আমার আছে।”
বুধবার ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার সময় মদন মিত্র সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, অভিষেকের একনায়কতন্ত্রের জন্যই দলের আজ এই দশা। মদনের এই আক্রমণকে নস্যাৎ করে দিয়ে মমতা সাফ বলেন, “আসলে অভিষেক একটা বাহানা মাত্র। ওর যা ভুলত্রুটি ছিল, সব মাফ হয়ে গিয়েছে। ও দলের জন্য নিরলস লড়ে যাচ্ছে এবং আগামী ৫০ বছর লড়বে।” মদন মিত্রের দলত্যাগ প্রসঙ্গে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, “ভয় দেখিয়ে এজেন্সির জুজু দেখিয়ে দল ভাঙানো হচ্ছে। স্ত্রী, সন্তানের নামে নোটিস পাঠানো হচ্ছে।”
অন্যান্য বছর ধর্মতলার রাজপথে তৃণমূলের শহিদ দিবস উদযাপিত হলেও, এ বছর মমতাপন্থী তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ সরে যাচ্ছে বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে। এই সভাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করেছে আদালত। সে প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামে আমাদের সভা হবেই। আমি ২০ জুলাই নিজে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করব।” একই সঙ্গে পুলিশকে সতর্ক করে তিনি বলেন, “বিজেপি বা সেটিং দলগুলি যাতে কোনও ঝামেলা পাকাতে না পারে, তা পুলিশকে দেখতে হবে। ডেকরেটর বা মাইকওয়ালাদের ভয় দেখানো হতে পারে, তবে মনে রাখবেন, আমি খালি গলাতেও সভা করার ক্ষমতা রাখি।” সব মিলিয়ে, ভাঙনের আবহে দাঁড়িয়েও যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ, তা তাঁর এ দিনের মন্তব্যেই পরিষ্কার।