মালদার সভা থেকে নাম না করে ওয়েইসিকে নিশানা মমতার। চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: মালদহের কালিয়াচকের সাম্প্রতিক অশান্তি এবং বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখার ঘটনার নেপথ্যে বহিরাগত শক্তির হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার মালদার নির্বাচনী জনসভা থেকে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি জানান যে, ‘মালদহের এই ঘটনা বাংলার দীর্ঘদিনের অর্জিত সম্মান নষ্ট করে দিয়েছে।’ স্থানীয় মানুষের মধ্যে কোনও বিষয়ে ক্ষোভ থাকতে পারলেও, অশান্তি পাকানোর কাজটি করেছে হায়দরাবাদ থেকে আসা কিছু সাম্প্রদায়িক শক্তি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, তাঁর সরকার এই ষড়যন্ত্র হাতেনাতে ধরে ফেলেছে এবং রাজ্য পুলিশের সিআইডি ইতিমধ্যেই বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সমালোচনায় এদিন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে। অমিত শাহের দীর্ঘ সময় বাংলায় থাকা প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৬৫ দিন এখানে থাকলেও মানুষের মন জয় করতে পারবেন না। পাশাপাশি নাম না করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মণিপুরের অস্থির পরিস্থিতি সামলানোর পরামর্শ দেন তিনি। কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে লোকজনকে ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন এবং জানান যে, তাঁকে ফোন করে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হলে তিনি তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে এক মঞ্চে প্রকাশ্য বিতর্কে বসার চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি দাবি করেন যে, “প্রধানমন্ত্রী টেলি প্রম্পটার ছাড়া কথা বলতে পারেন না এবং আগে থেকে লিখে রাখা বক্তৃতা পাঠ করেন।” এই বিতর্কের মাধ্যমে তিনি প্রধানমন্ত্রীর আসল চেহারা মানুষের সামনে তুলে ধরবেন বলেও হুঙ্কার দেন। বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে এবার সাধারণ মানুষ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে জবাব দেবেন বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।
বাংলার বাইরে কর্মরত বাঙালিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা এবং অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলা ভাষায় কথা বললেই বাঙালিদের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। এই কারণে তিনি রাজ্যের যুবক-যুবতীদের কাজের জন্য বাইরে না যাওয়ার অনুরোধ জানান। অনুপ্রবেশকারী ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় যদি অনুপ্রবেশকারী থেকে থাকে, তবে সেই ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। তাই নৈতিক কারণে প্রধানমন্ত্রীর আগে পদত্যাগ করা উচিত বলে তিনি দাবি করেন।