চিত্র: নিজস্ব
বিশ্বদীপ নন্দী, দক্ষিণ দিনাজপুর: হরিরামপুরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিপ্লব মিত্রের সমর্থনে নির্বাচনী জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও নেতাভিত্তিক দল নয়, দলের প্রকৃত শক্তি কর্মীরাই। পাশাপাশি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, এখন অনেক কিছু কেড়ে নেওয়া হলেও ভবিষ্যতে ফিরে এসে সবকিছুর বিচার করা হবে।
সভামঞ্চ থেকে এস আই আর প্রসঙ্গ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশ দেন, যাদের নাম কাটা গেছে তাদের পুনরায় নাম তোলার জন্য সাহায্য করতে হবে। তিনি নিজেও রাস্তায় পাঁচ দিন অবস্থান করেছিলেন বলে জানান।দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রের ঘটনাও এদিন স্মরণ করেন তিনি।
পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন—রাজবংশী ভাষার উন্নয়ন, বুনিয়াদপুরকে পৌরসভায় উন্নীত করা এবং একলাখি-বালুরঘাট রেলপথ স্থাপনে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, তিনি বুনিয়াদপুরে একটি কারখানা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা করতে দেওয়া হয়নি।পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেন, ভুয়ো পরিচয়ে অনেকেই বাড়িতে গিয়ে ব্যাংকের তথ্য চেয়ে প্রতারণা করতে পারে।
মালদার একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাই দোষীদের গ্রেফতার করেছে। বিজেপির বিরুদ্ধে বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি তৈরির অভিযোগও তোলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয় না। তিনি দাবি করেন, তৃণমূল সরকার ফের ক্ষমতায় এলে রাজ্যের প্রতিটি বাড়ি পাকা করা হবে এবং প্রত্যেকের কাছে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে।এছাড়া এন আর সি ও ডিটেনশন ক্যাম্পের বিরোধিতা করে তিনি আশ্বাস দেন, রাজ্যে তা কার্যকর হতে দেওয়া হবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম না করে কটাক্ষ করে বলেন, যতই বাংলায় আসা হোক, তাতে কোনও প্রভাব পড়বে না। সবশেষে আত্মবিশ্বাসী সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী রয়েছে এবং সরকার গঠন তৃণমূলই করবে। তার কথায়, “মানুষকে অপমান করা হয়েছে, নাম কেটে দেওয়া হয়েছে—তার জবাব মিলবে ভোটের বাক্সেই।”