চিত্র- সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: ভোটের প্রচার শেষ হতে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি, ঠিক তার আগেই হলদিয়ার মাটি থেকে বিজেপি এবং শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করে শুভেন্দুকে ‘গদ্দার’ তকমা দিয়ে মমতা সাফ জানালেন, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে দিয়ে তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করানোর যে তালিকা তৈরি হয়েছে, তার পরিণাম ভাল হবে না। হলদিয়ার জনসভা থেকে নেত্রীর সরাসরি হুঙ্কার, “গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে কাকে কাকে গ্রেফতার করতে হবে। ভোটের পর নিজেকে সামলাও, অনেক কেলেঙ্কারি করেছ।”
এদিন হলদিয়ার সভা থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাল্টা ‘চার্জশিট’ পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্প সংস্থা এবং ট্রাক থেকে নিয়মিত ‘কাটমানি’ তোলা হয়। শুভেন্দুর নাম না নিয়ে মমতার প্রশ্ন, “কত টাকা হলদিয়া থেকে যায়, এটার একটা তদন্ত হোক। যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সেই টাকা অর্ধেক নিজে নেয়, আর বাকিটা দেয় বাইরের নেতাকে। আমি সব জানি।” সেই সঙ্গেই গত বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের ফলাফল নিয়ে ফের ‘লোডশেডিং’ এবং ‘ইভিএম লুটে’র অভিযোগ তুলে সরব হন তিনি।
বিরোধীদের মোকাবিলায় ভোটারদের বিশেষ পরামর্শও দিয়েছেন মমতা। তিনি বলেন, “কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তবে তাদের নাম, ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন।” বিজেপিকে ‘জুমলা’র দল বলে কটাক্ষ করে তিনি মা-বোনেদের আশ্বস্ত করেন যে, ভোট মিটে গেলে বিজেপি পালালেও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ আজীবন চালু থাকবে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর ‘ঝালমুড়ি’ বানানো বা ঘরোয়া মেজাজে জনসংযোগকেও কড়া ভাষায় বিঁধেছেন তৃণমূলনেত্রী।
মমতার এই আক্রমণাত্মক মেজাজ প্রথম দফার ভোটের আগে হলদিয়া ও সংলগ্ন শিল্পাঞ্চলে তৃণমূল কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশেষ করে ‘ভোটের পর নিজেকে সামলাও’, মমতার এই হুঁশিয়ারি আগামী দিনে শুভেন্দু বনাম মমতা সংঘাতকে যে আরও তীব্র করবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।