চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: দীর্ঘ বছর পর আবার আদালতের এজলাসে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এবার প্রেক্ষাপট দেশের সর্বোচ্চ আদালত, সুপ্রিম কোর্ট। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত (SIR) মামলার শুনানিতে তাঁর এই উপস্থিতি দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষের মনে ফিরিয়ে দিয়েছে ৩০ বছর আগের এক ঘটনাবহুল লড়াইয়ের স্মৃতি (Mamata Banerjee)।
১৯৯৪ সালে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ ব্লকে পুলিশের গুলিতে ছাত্র পার্থ সিংহ রায়ের মৃত্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছিল জেলা। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে কালো কোট পরে বালুরঘাট আদালতে হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সেই লড়াই আজও জেলার আইনজীবী মহলে চর্চিত।
সেই ঐতিহাসিক মামলার অন্যতম সাক্ষী, বর্ষীয়ান আইনজীবী মন্মথ ঘোষ স্মৃতিচারণা করে বলেন, “প্রায় তিন দশক আগে কুমারগঞ্জ মামলায় আন্দোলনকারীদের হয়ে সওয়াল করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। বালুরঘাট বার অ্যাসোসিয়েশনের লাইব্রেরি ঘরে রণকৌশল ঠিক করার পর প্রয়াত নীলকান্ত বাগচীর নেতৃত্বে আমরা মিস্টার সিনহার এজলাসে লড়েছিলাম।” তৎকালীন সতীর্থ শংকর চক্রবর্তী বা সুভাষ চাকিদের নাম আজও তাঁর স্মৃতিতে টাটকা (Mamata Banerjee)।
মন্মথবাবু আরও জানান, সেদিন আদালত কক্ষেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চেয়েছিলেন বালুরঘাটের জন্য তিনি কী করতে পারেন। আইনজীবীরা তখন রেল সংযোগের দাবি তোলেন। গনি খান চৌধুরীর আমলে বালুরঘাট-একলক্ষী প্রকল্প অনুমোদিত হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়কালেই তা বাস্তবে রূপ পায়। আজ সেই রেলপথে ট্রেন চলাচল এবং হিলি পর্যন্ত সম্প্রসারণের কৃতিত্বে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করেন জেলার মানুষ। সুপ্রিম কোর্টে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সওয়াল-জবাব যেন তিন দশক আগের বালুরঘাট আদালতের সেই লড়াকু মেজাজকেই আবার নতুন করে জনমানসে ফিরিয়ে আনল (Mamata Banerjee)।