চিত্রঃ নিজস্ব
বিশ্বদীপ নন্দী, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের অধিষ্ঠাত্রী দেবী হিসেবে পরিচিত বুড়া কালী বা বুড়িমা কালীমাতা। স্বয়ংভূ এই দেবীকে ঘিরে মানুষের বিশ্বাস অগাধ। কালীপুজোর পাশাপাশি শিবরাত্রির দিনেও এই মন্দিরে ভক্তসমাগম চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাটের শতাব্দীপ্রাচীন বুড়া কালীমাতা মন্দিরে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি মহাসমারোহে পালিত হতে চলেছে মহাশিবরাত্রি। ওই দিন শিবপুজো উপলক্ষে ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে ভক্তদের ঢল নামবে বলে আশা করা হচ্ছে।শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়, বুড়া কালীমাতা মন্দির এলাকাবাসীর আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। শিবরাত্রিকে ঘিরে মন্দির ও আশপাশের এলাকা সাজিয়ে তোলা হবে আলো ও ফুলের সাজে।উৎসবের আবহে মন্দির প্রাঙ্গণ হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত।
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিবপুজোর জন্য নেওয়া হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি। ভক্তদের সুবিধার জন্য শিবলিঙ্গে জল ও দুধ নিবেদনের ব্যবস্থা থাকবে। সন্ধ্যার পর অনুষ্ঠিত হবে মহাআরতি, চণ্ডীপাঠ এবং শিবচরিত্র নিয়ে বিশেষ আলোচনা। পাশাপাশি ভক্তদের জন্য বড় আকারে অন্নভোগের আয়োজন করা হয়েছে। মালদা ও উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকেও বহু ভক্তের আগমন ঘটবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। শিবরাত্রির রাতে মন্দিরের আঙিনা জুড়ে শিব আরাধনায় মগ্ন থাকবেন ভক্তরা। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্থানে শিব ও কালীমাতার সম্মিলিত শক্তির অধিষ্ঠান রয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই শিবরাত্রির পুণ্য তিথিতে ভক্তদের আস্থা আরও দৃঢ় হয়। মন্দির কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগে নিরাপত্তা ও পরিষেবা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই উৎসব কেবল ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, সামাজিক মিলনমেলায় রূপ নেয় প্রতি বছর। মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসবে হস্তশিল্প ও খাবারের দোকান। ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি ও স্থানীয় খাবারের স্বাদ নিতে ভিড় করবেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। শিবরাত্রির দিনে উপবাস ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শিব ও বুড়া কালীমাতার আশীর্বাদ কামনা করবেন অসংখ্য মানুষ।