চিত্র: সংগৃহীত
Bangla Jago Desk: বৃহস্পতিবার বাংলায় একাধিক নির্বাচনী সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হলদিয়া, বীরভূম এবং আসানসোলে মোট তিনটি সভার সূচি থাকলেও দিনের শুরুতেই হলদিয়ার জনসভা ঘিরে তৈরি হয় আলাদা আলোচনা। কারণ, সভাস্থলে দেখা যায় বিপুল সংখ্যক ফাঁকা চেয়ার, যা রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলেছে জনসমর্থন নিয়ে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে নির্ধারিত সময়ের অনেকটা পরে শুরু হয় হলদিয়ার সভা। সকাল সাড়ে ১০টায় পৌঁছনোর কথা থাকলেও প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে বায়ুসেনার হেলিকপ্টারে করে সভাস্থলে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্যের শুরুতে তিনি বাংলায় ‘কেমন আছো পূর্ব মেদিনীপুর’ বলে উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে অভিবাদন জানান। পাশাপাশি তমলুকের বর্গভীমা দেবী এবং শ্রীচৈতন্যদেবকে স্মরণ করেন।
তবে রাজনৈতিক বক্তব্য যতই তীব্র হোক, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। সভামঞ্চের সামনে এবং চারপাশে অসংখ্য চেয়ার ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা যায়। সাধারণত নরেন্দ্র মোদির সভায় জনতার ঢল নামার দাবি করে বিজেপি নেতৃত্ব। কিন্তু এদিন হলদিয়ায় সেই চিত্র দেখা যায়নি। এমনকি কর্মী-সমর্থকদের স্লোগানও তেমন জোরালো ছিল না, যা আরও স্পষ্ট করে দেয় উপস্থিতির ঘাটতি।
একসময় বাম আমলে লক্ষ্মণ শেঠের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল হলদিয়া। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এই অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপিতে যোগদানের পর গত বিধানসভা নির্বাচনে এখানে পদ্মফুল ফুটেছিল। কিন্তু সেই সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। হলদিয়ার বিজেপি বিধায়ক তাপসী মণ্ডল পরবর্তীতে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় গেরুয়া শিবিরের সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়ে।
এই প্রেক্ষাপটে হলদিয়ার জনসভায় ফাঁকা চেয়ার অনেকটাই রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। জনতার সাড়া কমে যাওয়া এবং সংগঠনের দুর্বলতা— দুই মিলিয়েই বিজেপির পায়ের তলার মাটি যে নড়বড়ে, তা এই সভা যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।