চিত্র: নিজস্ব
মনিরুল ইসলাম, পূর্ব বর্ধমান: বংশপরম্পরা ধরে সাহিত্য চর্চার ভাবধারাকে অখুন্ন রেখেছেন পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবার। দশটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করে একাধিক সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন ত্রিলোচন বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, পূর্ব বর্ধমান জেলার মঙ্গলকোটে সাংস্কৃতিক চর্চায় পাণ্ডিত্য লাভ করেছেন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে ৬ সদস্য। মঙ্গলকোটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানান ইতিহাস। পল্লীকবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিকের জন্মভিটা, ৫১ সতী পিঠের এক পিঠ, ঐতিহ্যবাহী মা য্যোগাদ্ধার প্রাচীন মন্দির, সহ নানান নিদর্শন মঙ্গলকোটের মাটিতে। বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারের অন্যতম সদস্য ত্রিলোচন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যচর্চা ও কাব্যগ্রন্থ রচনা করে মঙ্গলকোটের ঐতিহ্যকে বজায় রাখার চেষ্টা করছেন (Literature Legacy)।
ত্রিলোচন বাবু বলেন, বাবা ও দাদুর অনুপ্রেরণায় ছোটবেলা থেকেই স্কুলে বিভিন্ন কবিতা, আবৃত্তি পাঠ করতেন। তারপর সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিষয় নিয়ে লেখালেখি শুরু। বাবা ও দাদুর পূর্ণ সহযোগিতায় বর্তমানে তিনি দশটি কাব্যগ্রন্থ রচনা করে একাধিক সম্মানের সম্মানিত হয়েছেন। মূলত সর্বস্তরের নানান গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু কবিতা বা কাব্য আকারে তুলে ধরে মানুষকে সংস্কৃতিক দিশা দেখানোর মূল লক্ষ্য তাঁর। পাশাপাশি তিনি আরোও বলেন বর্তমান আধুনিক যুগে সাংস্কৃতিক চর্চা থেকে দিনের পর দিন দূরে সরে যাচ্ছে নতুন প্রজন্ম। হারিয়ে যাচ্ছে বইপড়া, সাংস্কৃতি চর্চার মানসিকতা। মোবাইল আসক্ত যুব সমাজকে সাংস্কৃতিক চর্চায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত তিনি নানান কবিতা লেখনীর মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা তুলে ধরছেন (Literature Legacy)।
তবে ছেলের এই সাফল্যে খুশি বাবা ধনঞ্জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। পণ্ডিত ধনঞ্জয় বাবু বলেন, বংশপরম্পরা ধরে সাংস্কৃতিক চর্চা কাব্যগ্রন্থ, কবিতা রচনার ভাবধারা আজও অব্যাহত। ২০০ বছরের প্রাচীন পুঁথির ঐতিহ্যকে আমরা ধরে রেখেছি। চৈতন্য দেবের আমলের প্রাচীন পুঁথি সংরক্ষণ করে রেখেছি। বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় সাংস্কৃতি চর্চা প্রায় বিলুপ্তির পথে। সরকার যদি দেবভাষাকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করে তবেই সংস্কৃতির চর্চার প্রচার ও প্রসার ঘটবে (Literature Legacy)।